সোমবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৭ সকাল ০৬:৫৯:১৩

Print Friendly and PDF

'আগামী নির্বাচনে প্রার্থীকে সম্পদের সঠিক হিসাব দিতে হবে'


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : মঙ্গলবার ২১শে নভেম্বর ২০১৭ রাত ০৮:২৬:৫৬, আপডেট : সোমবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৭ সকাল ০৬:৫৯:১৩,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৩০ বার

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ—ফাইল ছবি

আগামী জাতীয় নির্বাচনে সকল প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনে অবশ্যই সম্পদের সঠিক হিসাব দিতে হবে। মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হলে অবশ্যই তা খতিয়ে দেখা হবে। এ ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ১৩তম প্রতিষ্ঠাবাষিকীর কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওই কথা বলেন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শান্তির পায়রা উড়িয়ে চেয়ারম্যান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এরপর দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় নাট্যশালায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির সভাপতি ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কমিশনার ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ, কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক মো. জাফর ইকবাল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, 'দেশে বাজার অর্থনীতি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতিবাজ, লুটেরার সংখ্যা বেড়েছে। অর্থপাচার করে দুর্নীতিবাজরা দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করছে।'

তিনি আরও বলেন, 'ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফাইনেন্সিয়াল ইন্টিলেজন্স এর প্রতিবেদন অনুসারে ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে।'

ড. ফরাসউদ্দিন আরও বলেন, 'রাষ্ট্রের সব অঙ্গ দুর্নীতিগ্রস্ত হলে শুধু দুদক এককভাবে দুর্নীতি দূর করতে পারবে না। দুর্নীতি অঙ্কুরে বিনাশ করতে হবে।'

দুদককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'দুর্নীতির দায়ে এক হাজার পুঁচকে কর্মচারীকে ধরলে কোন লাভ হবে না। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের মাথা ধরতে হবে। দ্রুততা ও সাহসের সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।'

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, 'দুদকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুর্নীতি। সম্মিলিতভাবেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে।'

বড় দুর্নীতিবাজদের ধরা সম্ভব হয়নি স্বীকার করে তিনি বলেন, 'সকলকে এটাও মনে রাখতে হবে, পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখে যদি আমরা এদের ধরতে হাত বাড়াই, তাহলে এ হাত তুলে আনবো না, মাঝ পথে থেমে যাব না। সরকারি কর্মকর্তা, সিভিল সোসাইটি, মিডিয়াসহ সকলে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে।'

দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, 'দুদক সফল হয়েছে—এ কথা আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয় না। ব্যর্থতা আছে, সেগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয় পরিশুদ্ধভাবে কাজ করার জন্য। দুর্নীতি ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে বেশি।'

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, 'দেশের সাধারণ মানুষ, সুশীল সমাজ, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমসহ সকলকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে চাই। এবারের প্রতিষ্ঠাবাষিকীতে এটাই বড় প্রত্যাশা।'

এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য—'সবাই মিলে গড়ব, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ'। আলোচনা সভা শুরুর আগে চেয়ারম্যান সভায় উপস্থিত দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতিবিরোধী শপথবাক্য পাঠ করান।

সভায় কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ বলেন, 'সরকারি সেবা নিতে গিয়ে মানুষের চোখে কান্নার পানি আমরা দেখেছি। আমরা এই অবস্থা থেকে উত্তরণে গণশুনানিসহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি।'

কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম বলেন, 'আমরা ২০১৬ সালে যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম তখন কমিশনের মামলায় সাজার হার ছিল ৩৭ শতাংশ, যা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।'

মঙ্গলবার ঢাকাসহ সারাদেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দুদকের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে ওইসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।