সোমবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৭ সকাল ০৭:০৭:১২

Print Friendly and PDF

সরকারের চেষ্টায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি: প্রধানমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : বুধবার ২২শে নভেম্বর ২০১৭ সন্ধ্যা ০৭:৫৪:১৭, আপডেট : সোমবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৭ সকাল ০৭:০৭:১২,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৫০ বার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্তর্জাতিক মহলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যে জনমত সৃষ্টি হয়েছে তা সরকারের জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল। সরকার এদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতসহ সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সাংসদ মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। খবর বাসসের।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞ পৃথিবীর সব জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডকে হার মানিয়েছে। মিয়ানমারে পরিচালিত হত্যাযজ্ঞের প্রেক্ষিতে বাস্তুচ্যুত লাখো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় প্রদানের উদ্যোগ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বদেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিকভাবে সবার প্রত্যাশা।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সব সময় যে কোনো সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী। মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে রাখাইন থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়া ছিল বাংলাদেশ সরকারের একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। মিয়ানমারের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখে বিদ্যমান সমস্যার ক্ষেত্রে সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশ সোচ্চার হয়েছে। অতিদ্রুত বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অত্যাচার-নির্যাতনের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে সহায়তা করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠন ও মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য কূটনৈতিক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তৃতায় আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সুনির্দিষ্ট পাঁচ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেছি। পাঁচ দফার মধ্যে অন্যতম ছিল জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত প্রত্যাবর্তন। আমার এই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে। অন্যান্য বহুপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও আমি রোহিঙ্গা সমস্যার ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করেছি। রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দূর করতে মুসলিম বিশ্বের আরও জোরালো ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে আমি ওআইসি কনটাক্ট গ্রুপের বৈঠকে মুসলিম নেতাদের আহ্বান জানিয়েছি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের মাধ্যমে তারা এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে দু'পক্ষের প্রত্যাবাসন চুক্তি দ্রুত সম্পাদন এবং চলতি বছর নভেম্বরের মধ্যে 'জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ' গঠনে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। এ বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের বাসস্থানের জন্য জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠনসমূহে ইউএনএইচসিআরআই এবং আইওএম'র সহায়তায় প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার পরিবারের অস্থায়ী শেল্টার নির্মাণের কাজ চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রের এলাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া, ছয় লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার আশ্রয় নির্মাণের লক্ষ্যে উখিয়াতে সম্প্রতি ৩ হাজার ৫০০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। আমরা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করেছি। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষও সচেষ্ট রয়েছে।