মঙ্গলবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৮ রাত ০৮:৪৯:৪৫

Print Friendly and PDF

৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে কোটা বাতিলের সুপারিশ


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : সোমবার ১৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ দুপুর ১২:৪৯:২২, আপডেট : মঙ্গলবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৮ রাত ০৮:৪৯:৪৫,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৪৫ বার

নবম থেকে ১৩তম গ্রেডের (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির) সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা বাতিলের সুপারিশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কোটা পর্যালোচনা কমিটি।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

মন্ত্রিসভা বৈঠকের বিষয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আগের যে দ্বিতীয় বা প্রথম শ্রেণি বলা হতো, সেগুলো নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোটা থাকবে না। মানে ৯ থেকে ১৩ গ্রেড পর্যন্ত যে প্রাথমিক নিয়োগ হয়, সে নিয়োগে কোনো কোটা থাকবে না। এই প্রস্তাব আজকে আমরা সাবমিট করেছি।’

শফিউল আলম বলেন, ‘এটার প্রসেসটা হলো, এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক অনুমোদন গ্রহণ করা হবে। অনুমোদনের পরে এটা কেবিনেটে উপস্থাপিত করা হবে। পরবর্তী কেবিনেট বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে হবে। কেবিনেট পাস করে দিলে প্রজ্ঞাপন জারি হয়ে যাবে।’

সরকারি চাকরিতে বাংলাদেশে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা আছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য ৩০ শতাংশ, জেলা ও নারী কোটা ১০ শতাংশ করে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোটা পাঁচ শতাংশ এবং এক শতাংশ আছে প্রতিবন্ধী কোটা।

তবে কোটা সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে গত ফেব্রুয়রিতে শুরু হয় আন্দোলন। তারা সব মিলিয়ে কোটা ১০ শতাংশ করার দাবি জানায়।

গত ৮ থেকে ১১ এপ্রিল নানা ঘটনার পর ১১ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন কোনো কোটা থাকবে না। তবে গত ১২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণের বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে। এখন এটি বাতিল হলে তিনি আদালত অবমাননায় পড়বেন।

কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে সুপারিশ দিতে গত ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন হয়। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দিতে না পারার পর তিন মাস সময় বাড়ানো হয়।

২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধা সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন কিছু পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দিয়ে নিষ্পত্তি করে দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি মামনুন রহমান এবং বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের এই রায়ে বলা হয়, ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য চাকরিতে ৩০ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ (কোটা) অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।’

রায়ে আরো বলা হয়, ‘কোনো ক্ষেত্রে কোটা পূরণ যদি সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে পদ খালি রাখতে হবে।’

ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট আপিল বিভাগ হাইকোর্টের ওই রায়ের পর্যবেক্ষণের কিছু অংশ বাদ দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দেয়। আপিলের রায়েও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য চাকরিতে ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের (কোটা) বিষয়টি বহাল রাখা হয়।