শুক্রবার ২৫শে মে ২০১৮ সকাল ০৮:১২:২৩

Print Friendly and PDF

৪৫ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দেন গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের হিসাব সহকারী!


লিটন চৌধূরী:

প্রকাশিত : শুক্রবার ২৪শে জুন ২০১৬ রাত ১০:৪৩:৫৬, আপডেট : শুক্রবার ২৫শে মে ২০১৮ সকাল ০৮:১২:২৩,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৬৮৮৫ বার

সময়নিউজ ডট নেট:
ঢাকা: কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (এনএইচএ) ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সাধারণ প্লট মালিকদের নানাভাবে হয়রাণি এবং বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে ওইসব অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছেন।

জানা গেছে, সংস্থার হিসাব সহকারী রায়হান খন্দকার এবং অফিস সহকারি শওকত আহমেদ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। ইতিপূর্বে রায়হান খন্দকার মিস কেস ৩/৯৬ এর প্লটের মালিকের কাছে নামজারি বাবদ মোটা অংকের ঘুষ দাবি করেন। ওই প্লটের মালিক তার বিরুদ্ধে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

গণপূর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামানকে নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশে গত ১৩ মার্চ রায়হান খন্দকারকে দিনাজপুর হাউজিংয়ে বদলি করা হয়। কিন্তু তার বদলি কার্যকর হয়নি। অর্থাৎ এখানে মন্ত্রীর নির্দেশও উপেক্ষিত হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান সময়নিউজকে বলেন, রায়হানের বদলির আদেশ বিশেষ বিবেচনায় স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, বদলি ঠেকাতে সংস্থাটির সিবিএ নেতাদের ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন রায়হান খন্দকার। প্রশাসনকে দিয়েছেন ৫ লাখ টাকা। সিবিএ নেতাদের দিয়ে প্রশাসনকে চাপ দিয়ে রায়হানের বদলি ঠেকানো হয়েছে। এখানে সংস্থাটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আচরণে সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারিরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

তাদের প্রশ্ন অর্থের জন্যই তাহলে রায়হানকে বদলি করা হয়েছিলো। রায়হান খন্দকার ইতিপূর্বে প্লটের নামজারি করে দেবে বলে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আতিকের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন। পরবর্তীতে কাজ করতে না পারায় ওই টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়। এক পর্যায়ে রায়হান আতিককে ১০ লাখ টাকার চেক দেন। বিষয়টি সংস্থাটির অধিকাংশ কর্মচারীই জানেন। রায়হান বেতন পান ১৫ হাজার টাকা। অথচ আদাবরের জাপান গার্ডেন সিটিতে ভাড়া থাকেন ৪৫ হাজার টাকায়। অনেকের প্রশ্ন, তার আয়ের উৎস কী?

জানা গেছে, ২০০৮ সালে চাকরিতে যোগদান করা গাইবন্ধার সাধারণ স্কুল মাস্টারের ছেলে রায়হার মিরপুরে ফ্ল্যাট কিনেছেন। দামি গাড়িও ব্যবহার করেন। প্রতিদিন মৎস্য ভবনের সামনে নেমে পায়ে হেঁটে অফিসে ঢোকেন রায়হান। এ জাকজমকপূর্ণ জীবনে অর্থের উৎস কি জানতে চায় সংস্থার সৎ কর্মকর্তা কর্মচারিরা।

এ বিষয়ে রায়হানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভাই আমার বিরুদ্ধে অনিত অভিযোগ সঠিক নয়। তবে বদলীর আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। কোন অর্থের বিনিময়ে নয় বলে জানান তিনি।

এদিকে গত ১৬ জুন এক আদেশবলে আট কর্মচারীকে বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সিবিএ নেতাদের সহযোগিতায় কর্তৃপক্ষ এই বদলির আদেশ জারি করায় কর্মচারিরা ফুসে উঠেছে। আর এই বদলি হওয়া অধিকাংশ কর্মচারি সরকার দলীয় সদস্য বলে জানা গেছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেছেন, সুষ্ঠভাবে দাপ্তরিক কার্যাদি পরিচালনার জন্য বদলি করা হয়েছে। এদিকে সিবিএর এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই বদলি সুবিধাবাদীদের ঈদ বাণিজ্যের জন্য করা হয়েছে। বিষয়টি মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন রয়েছে।
 
শুক্রবার, ২৪ জুন ২০১৬