বৃহঃস্পতিবার ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৮ সকাল ০৮:৩৬:২৮

Print Friendly and PDF

তালিম তরবিয়তে মুখর ইজতেমা ময়দানআজ আখেরি মোনাজাত


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : রবিবার ২১শে জানুয়ারী ২০১৮ রাত ০২:২০:৫৫, আপডেট : বৃহঃস্পতিবার ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৮ সকাল ০৮:৩৬:২৮,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৩২ বার

ফাইল ছবি

বয়ান, তালিম-তাশকিল ও তাসবিহ-তাহলিলের মধ্য দিয়ে শনিবার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। আজ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে দাওয়াতে তাবলিগের ৫৩তম এ আয়োজন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে মোনাজাত হতে পারে। তা পরিচালনা করবেন তাবলিগের অন্যতম শীর্ষ মুরব্বি কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ জোবায়ের।

আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনের কর্মকর্তা মো. হালিমুজ্জামান জানান, মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে যাতায়াতের জন্য ১৩টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে রেলওয়ে। এছাড়া সব ট্রেনের যাত্রাবিরতি থাকবে টঙ্গী স্টেশনে।

শনিবারও বহু দেশি-বিদেশি মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে আসেন। আজ আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত এ ঢল থাকবে। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে টঙ্গী ও গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকায় স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, অফিস-আদালত ও গার্মেন্ট কারখানায় আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার বাদ ফজর বাংলাদেশের মাওলানা মোহাম্মদ হোছাইনের বয়ানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের বয়ান শুরু হয়। বাদ জোহর সোমালিয়ার মাওলানা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, বাদ আসর বাংলাদেশের মাওলানা রবিউল হক এবং বাদ মাগরিব বয়ান করেন হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ জোবায়ের।

মাওলানা মোহাম্মদ হোছাইন ইমান-আমল, জান্নাত-জাহান্নাম ও দাওয়াতের মেহনতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করেন। তিনি বলেন, নবী করিম (সা.)-এর দেখানো পথে আমল করতে হবে, তাহলেই সফলতা আসবে। এছাড়া নাজাতের পথ নেই। নবীর তরিকার ওপর শয়তান কোনো দখল নিতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা নবী করিম (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী চলা ব্যক্তিকেই পছন্দ করেন। একটি হাদিস উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, মুহাম্মদ (সা.)-এর তরিকার বিপরীতে যে চলবে, তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য বরবাদি। মাওলানা হোছাইন আরও বলেন, সব কাজের আগে বিসমিল্লাহ বলার অনেক ফজিলত। যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহ বলে খানা খায়, বিছানায় ঘুমাতে যায়, ঘর থেকে বের হয়- যে কাজই করুক, শয়তান তার সঙ্গে শরিক হতে পারে না।

২ মুসল্লির মৃত্যু: শুক্র ও শনিবার ২ মুসল্লি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। তারা হলেন- মোবারক আলী ওরফে মোহর আলী (৬০) ও মো. শহিদুল ইসলাম (৫৬)। মোবারক জামালপুরের ইসলামপুর থানার পোড়াছর গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে। শুক্রবার রাত সোয়া ১টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে টঙ্গী হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শহিদুল শনিবার সকালে ময়দানে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ইন্তেকাল করেন। শনিবার পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বে ২ বিদেশি নাগরিকসহ ৭ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।

আর হবে না যৌতুকবিহীন বিয়ে: ময়দানের জিম্মাদার প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন জানান, কয়েক বছর ধরে ময়দানে যৌতুকবিহীন বিয়ে হচ্ছে না। এবারও হয়নি। ইজতেমা ময়দানে আগের মতো আর কোনো যৌতুকবিহীন বিয়ে হবে না। যৌতুকবিহীন বিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার মসজিদে মসজিদে হবে।

চিকিৎসাসেবা: টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. পারভেজ হোসেন জানান, শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুই দিনে প্রায় ১৯ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, মুসল্লিদের জন্য বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি ও এটলাস হোন্ডা রোডে গণস্বাস্থ্য ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের মাধ্যমে মাত্র ১০ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে। টঙ্গী ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি এমএ লতিফ বলেন, ইজতেমার দুই পর্বে প্রায় ৩২ হাজার মুসল্লিকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়েছে।

ময়দানের ভেতরে হকারদের উৎপাত: প্রতিবছর ময়দান থেকে দূরত্ব বজায় রেখে হকাররা মালামালের পসরা সাজিয়ে বসত। কিন্তু এ বছর ময়দানের ভেতরেই, বিশেষ করে ৮নং গেটের ভেতরে তাদের শীতের কাপড়, টুপি, পাঞ্জাবি-পায়জামা, মধু, আতর-তসবিহ ও মিসওয়াকসহ নানা পণ্যের দোকান সাজিয়ে বেচাকেনা করতে দেখা গেছে। এতে মুসল্লিদের যাতায়াতে বেশ কষ্ট হয়েছে।

বিভিন্ন অপরাধে ১৭ জন আটক: বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের আশপাশে শনিবার অভিযান চালিয়ে ১৭ জন পকেটমার, মলমপার্টির সদস্য ও ছিনতাইকারীকে আটক করেছে টঙ্গী থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফিরোজ তালুকদার বলেন, আটক ব্যক্তিদের গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গাজীপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন টঙ্গী অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. লেহাজ উদ্দিন বলেন, সিটি কর্পোরেশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাধারণ ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, ইজতেমা ময়দানের নিরাপত্তাসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ৭৫টি সংস্থা কাজ করছে, যা সার্বিক মনিটরিং করছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন।