সোমবার ২৩শে এপ্রিল ২০১৮ রাত ১২:২০:২০

Print Friendly and PDF

পেটে গজ রেখে সেলাইপটুয়াখালীর সেই ভুয়া ডাক্তার রাজনকে গ্রেফতারের নির্দেশ


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : সোমবার ৬ই নভেম্বর ২০১৭ সন্ধ্যা ০৬:৩৩:৫৮, আপডেট : সোমবার ২৩শে এপ্রিল ২০১৮ রাত ১২:২০:২০,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৪৮ বার

ফাইল ছবি

সময়নিউজ ডট নেট:
ঢাকা: সন্তান প্রসবের সময় এক নারীর পেটে গজ রেখে অপারেশন শেষ করায় কথিত চিকিৎসক রাজন দাসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করে তাকে আদালতে হাজির করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টর বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন।

সোমবার সকালে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনের পক্ষে হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কথিত চিকিৎসক রাজন দাসের চিকিৎসা সনদ ভুয়া। এটি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এর পর হাইকোর্ট ওই কথিত চিকিৎসককে গ্রেফতারের এই নির্দেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার।

গত ২২ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে 'সাড়ে তিন মাস পর পেট থেকে বের হল গজ!' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে প্রসূতির মা রোকেয়া বেগমের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, 'গত মার্চে সন্তান প্রসবের জন্য মাকসুদা বেগমকে বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার করে মাকসুদার একটি মেয়ে হয়। কয়েক দিন ক্লিনিকে থাকার পর তারা বাড়ি ফেরেন। এক মাস পর মাকসুদা পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় আবারো ওই ক্লিনিকে যান। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ দিয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করেন। দুই মাস পর খিঁচুনি দিয়ে জ্বর ওঠে। তখন খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। গত জুনে বরিশাল মেডিক্যালের বহির্বিভাগে দেখানো হয়। তখন আলট্টা-সনোগ্রাফিতেও কিছু ধরা পড়ে না। এরপর পটুয়াখালীতে এক চিকিৎসককে দেখানোর পর তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। ১২ জুলাই হাসপাতালে মাকসুদার অস্ত্রোপচার হয়। তখন তার পেটের ভেতর থেকে গজ বের করা হয়।'

পরদিন ওই প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদ উল্লা আদালতের নজরে নেন। এর পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারির পাশাপাশি পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ও বরিশাল মেডিক্যালের গাইনি বিভাগের প্রধানসহ তিনজনকে তলব করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিককে হাজির হতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার আদালতে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন প্রতিবেদন দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদেশ দেন হাইকোর্ট।