রবিবার ২১শে অক্টোবর ২০১৮ দুপুর ০২:০৭:১৫

Print Friendly and PDF

সিনহার পদত্যাগ স্ব–ইচ্ছায় নয়, জোর করে: জয়নুল


আদালত প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : শনিবার ১১ই নভেম্বর ২০১৭ বিকাল ০৩:২৫:৫৩, আপডেট : রবিবার ২১শে অক্টোবর ২০১৮ দুপুর ০২:০৭:১৫,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৯২ বার

জয়নুল আবেদীন। ফাইল ছবি

সময়নিউজ ডট নেট:
ঢাকা: ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের জন্যই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্র নেওয়া হয়েছে। এস কে সিনহা স্ব-ইচ্ছায় পদ্যাগপত্র দেননি।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবি সমিতি মিলনায়তনে আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালতকেও সরকার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে গেছে।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এটা জাতির জন্য খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এরকম ঘটনা জাতির ইতিহাসে কখনো ঘটেনি। দিনটিকে বিচার বিভাগের জন্য কালো দিন বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।’ জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে আজকের দিনটি বিচার ব্যবস্থার জন্য, আইনের শাসনের জন্য একটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ দিন। এক কথায় বলতে গেলে যে এই দেশে স্বাধীন হওয়ার পরে যা ঘটেনি তা ঘটে গেল।’

আইনজীবী সমিতির সভাপতি বলেন, ‘সকালেও জানা গিয়েছিল তিনি (এস কে সিনহা) কানাডা চলে গেছেন এবং পদত্যাগপত্র বিষয়ক কোনো চিঠি প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে আসেনি। পরবর্তীতেই জানলাম তিনি পদত্যাগ করেছেন। আমরা এখনো জানি না তিনি কীভাবে পদত্যাগ করলেন। মেইলের মাধ্যমে করলেন নাকি অন্য কোনো এজেন্সি সিঙ্গাপুর থেকে তার পদত্যাগপত্র নিয়ে এসেছে।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এ অবস্থা বাংলাদেশের ইতিহাসে আমরা কখনো দেখিনি। শুধুমাত্র একটি ঘটনা দেখেছিলাম ১৯৮২ সালে, এরশাদ সরকারের সময় প্রধান বিচারপতি এজলাসে বসে জানতে পারলেন যে তাকে অপসারণ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ বিচার বিভাগ কি হবে তা জানি না। কিন্তু ষোড়শ সংশোধনীকে কেন্দ্র করে রায়ের পরে একজন প্রধান বিচারপতিকে অনেকগুলো অভিযোগ তার মাথায় নিয়ে চলে যেতে হলো। ভবিষ্যতে এরকম বিচার ব্যবস্থায় কে আসতেসে, কে আসবে তা আমাদের আইনজীবীদের মধ্যে অরেক সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে।’

প্রধান বিচারপতির পদ এখন শূণ্য বলে মন করেন জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘স্ব ইচ্ছায় এই পদত্যাগপত্র আসেনি বলে আমরা মনে করি। তারপরেও পদত্যাগপত্র গ্রহণ করায় প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য অবস্থায় আছে। এটা থাকতে পারে না। রাষ্ট্রপতি তার বিবেক দিয়ে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিলে পরেই আমরা বুঝতে পারব আগামী দিনে আইনের শাসনের কে ভবিষ্যৎ। আইনের শাসনের ওপর এই যে ঘটনা কয়েক দিনে ঘটল তা একটি কালো থাবা বলোই আমরা মনে করি।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবি সমিতির সহ-সভাপতি উম্মে কুলসুম বেগম উপস্থিত ছিলেন।