রবিবার ২১শে অক্টোবর ২০১৮ দুপুর ০১:৪৪:৩১

Print Friendly and PDF

এসকে সিনহার ৩৪ মাসের যত ঘটনা


ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রকাশিত : রবিবার ১২ই নভেম্বর ২০১৭ সকাল ০৯:৪৫:৪০, আপডেট : রবিবার ২১শে অক্টোবর ২০১৮ দুপুর ০১:৪৪:৩১,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৫৮ বার

সময়নিউজ ডট নেট:
ঢাকা: সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) বাংলাদেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম অমুসলিম প্রধান বিচারপতি।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন এসকে সিনহা। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল।

তবে কার্যকাল শেষ হল মেয়াদের ৮১ দিন আগেই। যা ছিল প্রধান বিচারপতি হিসেবে পদত্যাগ করার প্রথম ঘটনা।

৩৪ মাস প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় নানা কারণে বারবার আলোচনা-সমালোচনায় উঠে আসে তার নাম।

দায়িত্ব পালনের আগে ও পরে নানা ঘটনায় আলোচিত ছিলেন বিচারপতি এসকে সিনহা। যুদ্ধাপরাধের মামলার শুনানিতে একাত্তরে নিজের শান্তি কমিটিতে থাকার কথা তুলে ধরে আলোচিত হন তিনি।

তবে তিনি একই সঙ্গে বলেছিলেন, শান্তি কমিটির ছদ্মাবরণে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছিলেন।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেয়ার পর বিভিন্ন সময় বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।

নিন্ম আদালতের বিচারক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ নিয়ে তার সঙ্গে সরকারের বিরোধও ছিল আলোচিত।

অবসরের পর রায় লেখা নিয়েও অবসরপ্রাপ্ত আরেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে তার বাদানুবাদ তুমুলে ওঠে।

তবে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে যে বিতর্কের শুরু হয়, তা প্রথমে ছুটি ও পরে পদত্যাগের মাধ্যমে শেষ হল।

চলতি বছরের জুলাইয়ে ওই রায় প্রকাশের পর থেকে যেসব ঘটনা আলোচিত হয়েছে, সেগুলো নিচে দেয়া হল-

চলতি বছরের ৩ জুলাই : উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় বহাল রেখে রায় দেন আপিল বিভাগ।

১ আগস্ট : আপিল বিভাগের ‘পূর্ণাঙ্গ রায় ও ৪০০ পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ’ সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

৯ আগস্ট : রায়ের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে কঠোর সমালোচনা করেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক।

১০ আগস্ট : ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতির ‘অগ্রহণযোগ্য’ বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার উদ্যোগের কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

১২ আগস্ট : প্রধান বিচারপতি সিনহার সঙ্গে দেখা করে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে দলীয় বক্তব্য জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

১৩ আগস্ট : রায় নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থক আইনজীবীরা।

১৬ আগস্ট : এ রায় নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলোচনা হয়।

২২ আগস্ট : প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব ছাড়তে বিচারপতি এসকে সিনহাকে সময় বেঁধে দেন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা। অন্যথায় তাকে অপসারণে আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।

২৪ আগস্ট : সুপ্রিমকোর্টের অবকাশ শুরুর আগে শেষ অফিস করেন বিচারপতি সিনহা। ওই দিন আদালতের কার্যক্রম চলাকালে বক্তব্য ভুলভাবে উদ্ধৃত না করতে সংবাদ কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর : বিদেশ সফরে ছিলেন সিনহা।

১৩ সেপ্টেম্বর : ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব গৃহীত হয়। তীব্র সমালোচিত হন সিনহা।

৩০ সেপ্টেম্বর : সুপ্রিমকোর্টের ১৪ অক্টোবরের বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ৩০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ডেকে নিয়ে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ‘১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ তুলে ধরেন।

১ অক্টোবর : বঙ্গভবনের ওই বৈঠক থেকে ফিরে পরদিন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি ইমান আলী নিজেরা বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তারা প্রধান বিচারপতির হেয়ার রোডের বাড়িতে গিয়ে এ বিষয়ে কথা বললে বিচারপতি সিনহা ‘দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের’ ওই অভিযোগগুলোর ‘গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা’ দিতে পারেননি বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

২ অক্টোবর : অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর ছুটিতে যাওয়ার আবেদন করেন বিচারপতি সিনহা। পরে আরেক আবেদনে ছুটির সময় বাড়িয়ে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল।

৬ অক্টোবর : প্রধান বিচারপতির খোঁজ নিতে সুপ্রিমকোর্ট থেকে তার বাসায় যেতে চান বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। তবে পুলিশ তাদের গাড়ি আটকে দেয়।

১৩ অক্টোবর : ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যান প্রধান বিচারপতি সিনহা। তার আগে সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় তিনি বিব্রত, শঙ্কিত।

১৪ অক্টোবর : সুপ্রিমকোর্টের বিবৃতিতে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ করা হয়।

সর্বশেষ ১১ নভেম্বর সিঙ্গাপুর দূতাবাসের মাধ্যমে পাঠানো এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র বঙ্গভবনে পৌঁছায়। -যুগান্তর