মঙ্গলবার ২৩শে জানুয়ারী ২০১৮ সকাল ০৭:৫৬:৩৭

Print Friendly and PDF

খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থন সম্পন্নজিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচার শেষ পর্যায়ে


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : মঙ্গলবার ৫ই ডিসেম্বর ২০১৭ বিকাল ০৪:২৮:৫৫, আপডেট : মঙ্গলবার ২৩শে জানুয়ারী ২০১৮ সকাল ০৭:৫৬:৩৭,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৭৬ বার

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে দেয়া বক্তব্য সম্পন্ন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারস খালেদা জিয়া।

এ মামলায় আগামী ১৯, ২০ ও ২১ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এর মধ্যে দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এ মামলা বিচারের শেষ পর্যায়ে উপনীত হল। যুক্তিতর্ক শুনানি সম্পন্ন হলে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসবে।

মঙ্গলবার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে সাড়ে তিন ঘণ্টা বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়া।

এ সময় নিজের প্রতি আনা দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি দুদক আইনের তালিকাভুক্ত কোনো অপরাধ করিনি বলে সুষ্পষ্ট জানিয়ে মতামত দাখিল করি, তারপরও কোনোরূপ দালিলিক প্রমাণ ছাড়া পনের দিনের ব্যবধানে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ দাখিল করে। অথচ, আপনার আদালতে কোনো তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, আমার দুর্নীতির সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বা ছিল না। আর আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তারাও অসত্য বলেছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন সময় আমার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।

আত্মপক্ষ সমর্থন করে খালেদা জিয়ার দেয়া এ বক্তব্য শেষে বিচারক জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য তিন দিনের সময় নির্ধারণ করেন।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন খালেদা জিয়া। এ সময় তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়।

শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক।

এর পর আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেয়া শুরু করেন বিএনপি নেত্রী।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার এবং দুদকের পক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল।

উল্লেখ্য, গত ৩০ নভেম্বর দুর্নীতির এ দুই মামলায় খালেদা জিয়া হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে দুই মামলার শুনানির জন্য এই দিন ধার্য করেন।

এর আগে চলতি বছরের ১২ অক্টোবর বিদেশে থাকাকালে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।

১৯ অক্টোবর দুই মামলায় আত্মসমর্পণ করে অস্থায়ী জামিন পান। এর পর থেকে মামলার ধার্য তারিখে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন তিনি।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুদক।

আর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় অপর মামলা করা হয়।