বুধবার ১৮ই জুলাই ২০১৮ রাত ০৩:১০:০৬

Print Friendly and PDF

হাইকোর্টে ১০৪ বাসিন্দার রিটঅতিরিক্ত গৃহকর আদায়ে দেওয়া নোটিশ স্থগিত


আদালত প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : সোমবার ১১ই ডিসেম্বর ২০১৭ সকাল ১০:৪৩:৩৭, আপডেট : বুধবার ১৮ই জুলাই ২০১৮ রাত ০৩:১০:০৬,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৬৫ বার

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় অতিরিক্ত গৃহকর আদায়ে দেওয়া নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি এম ফারুকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল বোরবার রুলসহ এ আদেশ দেন।

রুলে ১৯৮৬ সালের দ্য মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন ট্যাক্সেশান রুলস অনুসারে কর আদায়ের ক্ষেত্রে আদর্শ কর তফসিলে নির্ধারিত করের অতিরিক্ত কর আদায়ে দেওয়া নোটিশ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পাঁচ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

অতিরিক্ত কর আরোপের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার ১০৪ জন বাসিন্দা রিটটি করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. মুক্তাদির রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম।

পরে আমাতুল করীম প্রথম আলোকে বলেন, কর আদায়ে দেওয়া নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে আপিল বিভাগে আবেদন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মো. মুক্তাদির রহমান বলেন, ১৯৮৬ সালের বিধান অনুসারে নগরবাসীর কাছ থেকে কর আদায় করে থাকে সিটি করপোরেশন। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুসারে ২০১৫ সালে একটি আদর্শ কর তফসিল প্রণয়ন করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে ইমারত ও জমির ওপর শতকরা ৭, ময়লা নিষ্কাশন বাবদ শতকরা ৭, সড়কবাতি বাবদ শতকরা ৫, পানি বাবদ শতকরা ৩ এবং স্বাস্থ্য খাতে শতকরা ৮ ভাগ ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়। এ হিসাবে সব মিলে শতকরা ৩০ ভাগ ট্যাক্স নির্ধারণ করা যেতে পারে।

এই আইনজীবী আরও বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতিটি এলাকার বাড়িভাড়া নির্ধারণ করার পর তার বার্ষিক মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে ওই পাঁচ খাতে ট্যাক্স নির্ধারণ করতে হবে। অথচ করপোরেশন আদর্শ কর তফসিল অনুসরণ না করে বিভিন্ন সময়ে তিনটি খাতে (ইমারত ও জমি, ময়লা নিষ্কাশন ও সড়ক বাতি) হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের জন্য নোটিশ দিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩২০ থেকে ৯৭৪ ভাগ পর্যন্ত ট্যাক্স বাড়িয়ে ওই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রতি ৫ বছর পরপর বাড়িভাড়া মূল্যায়ন করার কথা থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত কর আদায়ে বিভিন্ন সময়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই নোটিশগুলো চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হলে হাইকোর্ট রুলসহ ওই আদেশ দেন।