সোমবার ১৬ই জুলাই ২০১৮ দুপুর ০২:৫৬:৫১

Print Friendly and PDF

নতুন বিচারপতির জন্য রিভিউ শুনানি বন্ধ থাকবে না: আইনমন্ত্রী


আদালত প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : মঙ্গলবার ২৬শে ডিসেম্বর ২০১৭ সন্ধ্যা ০৭:০৬:৪০, আপডেট : সোমবার ১৬ই জুলাই ২০১৮ দুপুর ০২:৫৬:৫১,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪২৪ বার

ফাইল ছবি

নতুন বিচারপতির জন্য রিভিউ পিটিশন শুনানি বন্ধ থাকবে না, পাচঁজন বিচারপতি শুনানি করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট রুলসে বলা আছে, ‘যতদূর সম্ভব যেই বেঞ্চ এটা শুনানি করেছিল সেই বেঞ্চই এর রিভিউ শুনানি করবে।’ সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় না নতুন করে বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সরকারি আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটরদের ১৯তম প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ আবেদনের শুনানির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, যতদূর সম্ভব যেই বেঞ্চ এটা (ষোড়শ সংশোধনীর আপিল) শুনানি করেছিল সেই বেঞ্চই এর রিভিউ শুনানি করবে। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় না নতুন করে বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে। পাচঁজন বিচারপতি শুনানি করতে পারবেন।

এক মাস ১৩ দিনেও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হয়নি, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে এখনও পর্যন্ত কোনো তথ্য নাই মহামান্য রাষ্ট্রপতি কবে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন।

যেহেতু সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, এটা রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। আমি সত্যি সত্যি জানি না, কবে দেবেন। আমি আশা করবো খুব শিগগিরই হবে। এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারব না।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনি নোটিশ প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জানি না।

এর আগে অনুষ্ঠানে আনিসুল হক বলেন, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলায় রাষ্ট্রপতিকে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, শৃঙ্খলাবিধির মাধ্যমে তা নিয়ে নেয়ার চেষ্টা হয়েছিল।

১১৬ অনুচ্ছেদে যা বলা আছে সেই আকারে করা হয়েছে। মাসদার হোসেনের মামলায় ১২টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। ১২টি নির্দেশনার ৭ নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, একটি রুলস প্রণয়ন করার। সেই রুলসে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রখার কথা বলা হয়েছিল।

তিনি বলেন, এই শৃঙ্খলাবিধির ২৯(২) এ বলা হয়েছে, যদি কোনো দ্বিমত হয় এবং সেটা যদি নিরসন না হয় তাহলে সুপ্রিম কোর্টের শেষ পরামর্শ প্রধান্য পাবে। সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কোনো মতেই ক্ষুন্ন হয়নি।

শৃঙ্খলাবিধির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে মাসদার হোসেন মামলার পরে এবং সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের আলোকে অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য একটি শৃঙ্খলাবিধি হওয়ার কথা ছিল।

২০০৭ সালের ১ নভেম্বর বিচার বিভাগ যখন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন হয় তখন এই শৃঙ্খলাবিধির প্রয়াজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এই এর প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেলেও ২০১৪ সালের আগে কিন্তু এই রুলস তৈরি হয়নি। এই রুলস তৈরি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। তৈরি করার পর এটা আমার সামনে আসে।

যেহেতু সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে হাই কোর্টের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা আছে এবং ১১৬ অনুচ্ছেদে মাহামান্য রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ গ্রহণের কথা বলা আছে, সেক্ষেত্রে আমি মনে করেছি এটা সুপ্রিম কোর্টের কাছে পাঠানো উচিত।

সুপ্রিম কোর্ট এটা দেখার পর আমাদের কাছে পাঠাবে তখন সেটাকে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এটা পাঠানোর পর প্রায় এক বছর সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনায় থাকার পর যখন আদেশসহ এটা আমাদের (আইন মন্ত্রণালয়ে) কাছে পাঠানো হলো। যে আদেশটা পাঠানো হয়েছিল সে আদেশটির একটি পেরাগ্রাফ এক্সপাঞ্জ করার জন্য আমরা পিটিশন দিয়েছি। ইনশাল্লাহ ২ জানুয়ারি এর শুনানি হবে।

সুপ্রিম কোর্টের সে আদেশে সাংঘর্ষিক বক্তব্য ছিল উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সেখানে পরিস্কারভাবে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্য ছিল।

১১৬ অনুচ্ছেদে যে ক্ষমতা দেয়া ছিল মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে সেই ক্ষমতা এই শৃঙ্খলাবিধির মাধ্যমে নিয়ে নেয়ার একটা চেষ্টা ছিল। তখন আমরা সেটাতে বাঁধা দিলাম। বললাম, এটাতো সংবিধানের লঙ্ঘন।

আনিসুল হক বলেন, যখন অস্থায়ী প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। সেখানে ১১৬’র সঙ্গে যেসব সাংঘর্ষিক ছিল আমরা সকলে একমত হয়ে তা পরিহার করেছি। পরবর্তীতে এই রুলস ঐক্যমতে প্রণয়ন করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছি।

রাষ্ট্রপতি সেটা দেখে সবরকম আইন পালন করা হয়েছে সুনিশ্চিত হয়ে তিনি সেটা গেজেট করার জন্য আদেশ দিলেন। এ সরকারের আগে যেসব সরকার দেশ পরিচালনা করেছে সেসব সরকার অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরি শৃঙ্খলাবিধি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে উপেক্ষা করেছে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমি শুধু এই কথা বলতে চাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ব্যপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে কমিটমেন্ট, সে রকম কমিটমেন্ট বঙ্গবন্ধুর সরকারের পর কোনো সরকার করেনি। সে জন্য আমরা মনে করি আওয়ামী লীগ সরকারই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রেখেছে। পাশাপাশি অন্যান্য সরকার যেগুলো ছিল আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি সেই সব সরকার বেসিক রুল অব ল’র যে প্রিন্সিপলস সেগুলো উপেক্ষা করে দেশ চালিয়েছে। আমরা যা করেছি তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে অক্ষুন্ন রেখে করেছি। আমাদের মত বিচার বিভাগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আর কোনো সরকার হয়নি। আইনমন্ত্রী সরকারি আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটরদের এই বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক বিচারপতি খাদেমূল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইন সচিব আবু সালহ শেখ মো. জহিরুল হক। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গোলাম কিবরিয়া।