বৃহঃস্পতিবার ২৩শে নভেম্বর ২০১৭ সকাল ০৮:০০:৩৮

Print Friendly and PDF

এক বছর পর মায়ের বুকে শিশু উজ্জল


সাগর কর্মকার// জাবি প্রতিনিধি:

প্রকাশিত : বুধবার ২৭শে জুলাই ২০১৬ রাত ১০:৩১:৩৬, আপডেট : বৃহঃস্পতিবার ২৩শে নভেম্বর ২০১৭ সকাল ০৮:০০:৩৮,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১০৮২২ বার

সময়নিউজ ডট নেট:
ঢাকা: বৃহস্পতিবার সকালে শান্ত-কোমল সবুজের ক্যাম্পাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন ক্লাসে যেতে ব্যস্ত ঠিক তখনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের প্রধান গেটে হঠাৎ ডুকরে কেঁদে ওঠে ভেজা কণ্ঠে মধ্যবয়সী নুরজাহান বেগম (৪১)। ‘সোনামানিক আমার’ বলে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ওঠেন বাবা গিয়াসউদ্দিন পোদ্দারও (৫২)। দুজনের কাঁন্না দেখে সেখানে জড়ো হতে থাকে ক্লাসে গমনকারী শিক্ষার্থীরা। কান্নাজড়িত কন্ঠে নুরজাহান বেগম বলেন,‘আল্লায় আপনাদের অনেক ভালো করুক। আমি আমার মানিকরে খুইজা পাইছি। আল্লায় আপনাগো ভালো করবো’।

দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর নিজেদের ছেলেকে খুঁজে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেছেন মা-বাবা দু’জনই। গিয়াসউদ্দিন পোদ্দার বলেন, ‘গত রমজানে (২০১৫ সালের) ছেলে হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি কিন্তু কোনো খবর পাইনি’।

খবর নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৩ জুন বাসা থেকে নিখোঁজ হয় গিয়াসউদ্দিন পোদ্দারের ছেলে মো. উজ্জ্বল(১২)। উজ্জলের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার পঞ্চসার উপজেলার দয়াল বাজার গ্রামে। অনেক খোঁজাখুজির পরও ছেলেকে না পেয়ে মুন্সিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা (ডায়েরি নং-৩৫২)।

এদিকে একবছর আগে নিখোঁজ হলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট সংলগ্ন মার্কেটের সামনে দুই মাস আগে (মে মাসের শেষ দিকে) তাঁর পরিচয় জানার চেষ্ঠা করেন দোকান কর্মচারীরা। সেখানেই তাকে খাবার দিয়ে রাখতেন তারা। সর্বশেষ ঈদের আগে উজ্জলকে দেখে তার সাথে কথা বলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। তখন তারা উজ্জলের খেয়াল রাখার জন্য দোকানদারদের বলেন। দুই মাস থাকা অবস্থায় উজ্জলের খাওয়া দাওয়া এমনকি গোসলও করিয়ে দিতেন দোকান কর্মচারীরা।

দোকান মালিক মো. শান্ত মিয়া বলেন, ‘তাকে (উজ্জলকে) খাওয়া দাওয়া এবং গোসলের ব্যবস্থা করেছে কর্মচারীরা। এমনকি ঈদের সময় যখন ক্যাম্পাস বন্ধ ছিলো তখনও তাকে এসে খাবার দিয়ে যাওয়া হতো’। ঈদের পরে ক্যাম্পাস খুললে কয়েকজন শিক্ষক এবং অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন উজ্জলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে তার পরিবারের খোঁজ জানাতে সবার কাছে সহযোগিতা কামনা করেন।

ইসমাইল বলেন, ‘আমার বাসা মুন্সিগঞ্জ হওয়ায় এই খবরটি স্থানীয় সব পেজ থেকে শেয়ার দেয়ার ব্যবস্থা করি এবং এবং আমার বন্ধু-বান্ধবদের খোঁজ নেওয়ার জন্য বলি। অবশেষে আমরা খবর পাই’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উজ্জলের ছবি দেখে স্থানীয় দুই তরুণের সহায়তায় ছেলের খবর গত মঙ্গলবার বিকেলে পেয়ে গতকাল বুধবার সকালে ছেলেকে নিতে আসেন তার বাবা-মা।

এ বিষয়ে আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশেদুল ইসলাম রাসেল বলেন, ‘একদিন কেনাকাটা করতে এসে দেখি একটি ছেলে মাটিতে শুয়ে আছে। ওর সাথে কথা বলে জানতে পারি তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ। পরে আমরা কয়েকজন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী মিলে তার খোঁজখবর নেওয়া শুরু করি। গতকাল তার পরিবারকে নিশ্চিত করা গেছে। কিন্তু দূরের পথ হওয়ার বুধবার সকালে আসতে বলা হয়েছে’।

উজ্জলের বাবা গিয়াসউদ্দিন পোদ্দার সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছেলেকে সাথে নিয়ে যান। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উজ্জল তার বাসায় পৌছেছেন।