সোমবার ১৬ই জুলাই ২০১৮ ভোর ০৫:০৯:১৯

Print Friendly and PDF

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাঅসুস্থ থাকায় আদালতে হাজির হলেন না খালেদা জিয়া


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার ৫ই এপ্রিল ২০১৮ দুপুর ০২:০১:৩৭, আপডেট : সোমবার ১৬ই জুলাই ২০১৮ ভোর ০৫:০৯:১৯,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৪০ বার

খালেদা জিয়া, ফাইল ছবি

অসুস্থতাজনিত কারণে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়নি। পরবর্তী যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আগামী ২২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার মামলাটির যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া কারাগারে অসুস্থ থাকায় ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান যুক্তিতর্ক শুনানি পিছিয়ে দেন। আগামী ২২ এপ্রিল যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য নতুন করে দিন ধার্য করা হয়েছে।

গত ২৮ মার্চ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ আদেশ দিয়েছিলেন। আদেশে কারাকর্তৃপক্ষকে ৫ মে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে বলা হয়।

এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় দুদকের পক্ষ থেকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়। দুদকের করা ওই আবেদনের ওপর ২৬ ফেব্রুয়ারি শুনানি হয়। ওই দিন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির বিরোধিতা করেছিলেন। শুনানি শেষে ১৩ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার আদেশ দেন। ২৮ মার্চ খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরের দিন ধার্য থাকলেও অসুস্থতার কারণে কারাকর্তৃপক্ষ তাকে হাজির করেনি।

গত ৩০ জানুয়ারি এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ ৭ বছর কারাদণ্ড দাবি করে দুদক প্রসিকিউশন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

এর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরু হয়। খালেদা জিয়া ছাড়া মামলায় অপর আসামিরা হলেন- তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। মামলায় হারিছ চৌধুরী পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। আর অপর দুই আসামি জামিনে আছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকের ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন আদালত। এর পর খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দীন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালনের জন্য গুলশানে একত্রিত হয়। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে সমাবেশ শেষে ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষ খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘোরাওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হলে আসামিরা সেখানে বোমা নিক্ষেপ করেন। এ ঘটনায় ঢাকা যানবাহন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাচ্চু বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় খালেদা জিয়া, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বিএনপি নেতা খন্দকার মাহবুবুর রহমানসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।