বুধবার ১৮ই অক্টোবর ২০১৭ ভোর ০৪:০৫:২৮

Print Friendly and PDF

‘৭৪-এর মতো ভয়াল দুর্ভিক্ষ ধেয়ে আসছে’


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : মঙ্গলবার ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ রাত ০৮:১০:০২, আপডেট : বুধবার ১৮ই অক্টোবর ২০১৭ ভোর ০৪:০৫:২৮,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২৯ বার

সময়নিউজ ডট নেট:
ঢাকা: দেশে ৭৪-এর মতো ভয়াল দুর্ভিক্ষ ধেয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। আর এজন্য সরকারের লুটপাটের নীতিকে দায়ী করেছে সংসদের বাহিরে থাকা দেশের প্রধান বিরোধী দলটি।

মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়।

রিজভী বলেন, সরকারপ্রধান রাজনৈতিক টুর্নামেন্টে সবদিক থেকে হেরে যেতে শুরু করার ফলে মিথ্যাচার করে দেশবাসীর ক্ষুধা ও ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে যে খাদ্য সংকট চলছে, যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে চালের দাম বাড়ছে, যেভাবে অভিযানের নামে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংকের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে, খাদ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রীরা যেভাবে মিথ্যাচার করছেন, তাতে প্রকৃত ও প্রকট সংকট আড়াল করা যাবে না।

বর্তমানে চালের দাম বাংলাদেশের ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, বর্তমানে মোটা চালের দাম ৫৫ টাকা, মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা পর্যন্ত। অথচ বিএনপি শাসনকালের শেষ দিনেও মোটা চালের দাম ছিল ১৬ টাকা।

বর্তমানে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়ে নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ অনাহার-অর্ধাহার থেকে তাদের আসন্ন দিনগুলো নিয়ে আতংকিত হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, সরকারি গোডাউন খালি, বেসরকারিভাবেও চালের তেমন মজুদ নেই। তার পরও প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, কোটি কোটি টন চালের মজুদ আছে, তাহলে চালের বাজারের অস্থিরতা কমছে না কেন?

এদিকে বাংলাদেশে চালের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটি বলেছে, গত তিন মাসে দেশে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই বলেই মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার- মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের পরম বন্ধু ভারত বাংলাদেশে চাল রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। ভারত সরকার সুস্পষ্টভাবে বলেছে, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর দুই মাস তারা কোনো চাল বাংলাদেশে রফতানি করবে না। ক্ষমতা ধরে রাখার গর্ব খর্ব হওয়ার ভয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারতের চাল রফতানি বন্ধ করার প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছে।

রিজভী বলেন, আমরা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। অবিলম্বে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চালের সরবরাহ বৃদ্ধির জোর দাবি জানাচ্ছি।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও বর্বর নির্যাতনে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়লেও সরকার এখনও কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।