শুক্রবার ২৫শে মে ২০১৮ সকাল ০৮:০৫:৩০

Print Friendly and PDF

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নথিতে রহস্যজনক ১৩ ভুল: বিএনপি


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : মঙ্গলবার ২৪শে এপ্রিল ২০১৮ বিকাল ০৫:০৯:৫৫, আপডেট : শুক্রবার ২৫শে মে ২০১৮ সকাল ০৮:০৫:৩০,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩২৮ বার

ফাইল ছবি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বিতর্কে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের প্রকাশিত নথিতে রহস্যজনক ১৩টি ভুল রয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি।

মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নথির শুরুতেই ডিপার্টমেন্টের নাম ভুল লেখা হয়েছে। চিঠিতে লেখা আছে, 'বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি'। কিন্তু হবে 'হাইকমিশন অব বাংলাদেশ'। বড় করে টেলিফোন নম্বর ও ফ্যাক্স নম্বর দেওয়া থাকলেও তা আনকমন। ব্রিটিশ চিঠির মধ্যে এগুলো থাকে না। 'ডিয়ার স্যার' লেখার পরিবর্তে 'ডিয়ার স্যারস' লেখা আছে। চিঠির ওপরে চারটি পাসপোর্টের কথা বলা হলেও নিচের দিকে একটি পাসপোর্টের কথা বলা হয়েছে। চিঠির শেষাংশে 'ফেইথফুলি'র এফ বড় হাতের অক্ষর দিয়ে লেখা। ব্রিটিশরা এটা কখনোই করবে না। যিনি সই করেছেন, তার কোনো নাম নেই। এসব বিবেচনায় চিঠি নিয়ে যথেষ্ট রহস্য রয়েছে। চিঠির 'ভুল'গুলো ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে করা অস্বাভাবিক বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

সম্প্রতি সেন্ট্রাল লন্ডনে এক সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শারিয়ার আলম মন্তব্য করেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিক নন, ব্রিটেনের লাল পাসপোর্টের লোভে তিনি বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট ত্যাগ করেছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্য নিয়ে কয়েক দিন ধরে বিতর্ক চলছিল।

সোমবার শাহরিয়ার আলমের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে তার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। এরপর সোমবার রাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বাসায় পাল্টা এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি তারেক রহমানের মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টের কপি ও ব্রিটিশ হোম অফিসের একটি নথি দেখান। এ সময় তিনি দাবি করেন, তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে তার পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। শাহরিয়ার আলম বলেন, আমি মনে করি এটি হচ্ছে নাগরিকত্বকে অস্বীকার করা।

এ ঘটনায় তারেক রহমানের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, তারেক রহমান বিশ্বের অসংখ্য বরেণ্য রাজনীতিবিদ, সরকারবিরোধী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতো সাময়িকভাবে বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সে দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র বিভাগে পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। দেশটির নিয়মানুযায়ী পাসপোর্ট জমা রেখে তাকে ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হয়েছে। কাজেই এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পাসপোর্ট তার কোনো কাজে লাগছে না। তিনি দেশে ফেরার মতো সুস্থ হলেই দেশের অন্যান্য নাগরিকের মতোই পাসপোর্টের জন্য আবেদন জানাতে ও তা অর্জন করতে পারবেন। কিন্তু এসবের দ্বারা কোনো আইন বা যুক্তিতে প্রমাণ হয় না যে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, লন্ডন সফরের একমাত্র অর্জন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সংগ্রহ করা তারেক রহমানের ২০০৮ সালে ইস্যু করা পাসপোর্টের ৩টি পাতা ও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র বিভাগের অসংখ্য ভুলে ভরা এক লাইনের রহস্যজনক একটি চিঠির ফটোকপি। কী দুর্বল তাদের অপকৌশল! বিষয়টি নিয়ে যা হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু না।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় দেশবাসীকে জানাতে চাই, তারেক রহমান জন্মসূত্রে বাংলাদেশের একজন গর্বিত নাগরিক। তিনি এই দেশের নাগরিক ছিলেন, আছেন ও থাকবেন।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ও অব্যাহত ঊর্ধ্বগতিতে বিপর্যস্ত। গুম-খুন-চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ। শেয়ার বাজার ও ব্যাংক লুটেরাদের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ। এমন সময় অপরাজনীতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার ফলে ক্ষোভের মাত্রা আরও বাড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।