রবিবার ২২শে এপ্রিল ২০১৮ ভোর ০৪:৪০:৩৬

Print Friendly and PDF

প্রধানমন্ত্রীর 'মিথ্যাচারের' জন্য আরেকটি মানহানির মামলা হতে পারে: ফখরুল


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার ১১ই জানুয়ারী ২০১৮ বিকাল ০৫:৩৪:৪২, আপডেট : রবিবার ২২শে এপ্রিল ২০১৮ ভোর ০৪:৪০:৩৬,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৩৪ বার

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর— ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে 'মিথ্যাচার' করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরেকটি মানহানির মামলা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'গতকাল [বুধবার] সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যেন গণতন্ত্রের ওপর বিষাক্ত তীর নিক্ষেপ। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে তীর্যক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন তা শুধু অনভিপ্রেত বা দুঃখজনকই নয়, বরং এতে রাজনৈতিক পরিবেশ এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও সংশয় দানা বাঁধবে। এজন্য আরেকটি মানহানির মামলা হতে পারে, যদি আইন থাকে।'

সরকারের চেয়ারের তলা থেকে 'জনসমর্থন সরে গেছে' মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অশ্রাব্য, হিতাহিত কাণ্ডজ্ঞানহীন-বিবেচনাহীন, সভ্যতা-ভব্যতা ও সুরুচির ওপর হিংস্য আগ্রাসন। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম জিয়াকে নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাই।'

বিদেশে খালেদা জিয়ার সম্পদ আছে— প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, 'জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এ ধরনের মিথ্যাচার রাষ্ট্রদ্রোহিতা।'

বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর কুৎসামূলক অপপ্রচারের এই বক্তব্য রাজনৈতিক বিভেদ-বিভাজনকে আরো প্রসারিত করবে এবং গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাকে দানবীয় শক্তি প্রয়োগে বাধা দেয়ার সামিল বলে গণ্য হবে। ক্ষমতাসীনদলের নেতৃবৃন্দ কেন এখন বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এতো তীব্র মিথ্যাচারে লিপ্ত হলেন... প্রধান কারণ হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের অনাচার-অপকর্মের বিরুদ্ধে বেগম জিয়া এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। তাই খালেদা-ভীতির কারণেই ক্ষমতাসীনদের মস্তিষ্কে গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয়ের হাওয়া তুলতে বেগম জিয়া সফল হয়েছেন বলেই প্রধানমন্ত্রী অসংযত ও অসংসদীয় কথাবার্তা বলছেন।'

বিএনপি 'ইনক্লুসিভ পলিটিক্সে' বিশ্বাসী উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'আগামী নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত করতে বিএনপি দৃঢ় বদ্ধপরিকর। এটাই দেশবাসীর আকাঙ্খা। জনগণের আকাঙ্খার সমান্তরালেই দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি রাজনীতি করে।'

তিনি অভিযোগ করেন, 'প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে সর্বত্র নির্বাচনের আওয়াজ দিচ্ছেন, অন্যদিকে বিষাক্ত-প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য দিয়ে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক নির্বাচনী পরিবেশকে করছেন কলুষিত। বাংলাদেশের মানুষের আগামী দিনের স্বচ্ছ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশাকে তিনি দুঃস্বপ্নে পরিণত করছেন। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ভ্রান্ত-অবাঞ্ছিত তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে কোনোটাই বিশ্বাস করাতে পারবেন না।'

'বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ক্রমাগত' মিথ্যার ধারা বর্ষণ করে ক্ষমতাসীনরা বাংলাদেশে এক বিধ্বংসী বিপজ্জনক অভিযানে নেমেছেন বলেও এ সময় মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।