সোমবার ২২শে জানুয়ারী ২০১৮ রাত ০৯:৫৬:৫৮

Print Friendly and PDF

মায়ের মরদেহ নিয়ে ৩ দিন ধরে ভারতীয় সীমান্তে বাংলাদেশি যুবক


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০১৭ দুপুর ১২:৩৫:৫০, আপডেট : সোমবার ২২শে জানুয়ারী ২০১৮ রাত ০৯:৫৬:৫৮,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৮৮৩ বার

বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা দুই-ই আছে টোকনের। তবুও আইনি জটিলতায় মায়ের মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে পারছেন না যুবক টোকন। আইনি মারপ্যাচে আটকে গত তিনদিন ধরে সীমান্তের ভারতীয় অংশে অপেক্ষায় আছেন তিনি।

দিনাজপুরের বাসিন্দা টোকন তার  মা কনিকা রাণীকে চিকিৎসা করাতে গত ১০ ফেব্রুয়ারি হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতের বেঙ্গালুরুতে যান। ভারতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন কনিকা রাণী। ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার বাসিন্দা এক আত্মীয়ের মাধ্যমে মালদা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

হাসপাতালের জটিলতা এড়াতে ওই সময় কনিকার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ওই আত্মীয়ের বাড়ির ঠিকানা লেখা হয়। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি কনিকা মারা যান । মরদেহ হস্তান্তরের সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই আত্মীয়ের বাড়ির ঠিকানায় ডেথ সার্টিফিকেট দেয়। আর এতেই তৈরি হয় আইনি জটিলতা।

মৃত্যুর পরদিন কনিকার মরদেহ হিলি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার সময় ঠিকানা না মেলার কারণে টোকনকে আটকে দেয় ভারতীয় শুল্ক (কাস্টমস) বিভাগ।

ঠিকানার গোলমালে মায়ের মরদেহ নিয়ে সীমান্তেই আটকে আছেন টোকন। বিভিন্ন সরকারি দফতরে ঘুরেও লাভ হয়নি।

এদিকে, কনিকার মরদেহে পচন ধরতে শুরু করলেও অনুমতি না থাকায় কোনো হাসপাতাল বা হিমাগারে তাঁর মরদেহ রাখা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন টোকন। অবশেষে স্থানীয়দের সহায়তায় কাঠের গুড়া ও ধানের তুষ দিয়ে মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন তিনি।

এদিকে, গতকাল বুধবার সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতায় ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জেলা প্রশাসক সঞ্জয় বসুর দ্বারস্থ হন টোকন। সব শুনে তিনি কলকাতায় অবস্থিত  বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ও মালদা জেলা হাসপাতালের মধ্যে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

সঞ্জয় বসু নিজে যোগাযোগ করে মালদা হাসপাতাল থেকে সংশোধিত নতুন ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যবস্থা করেছেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিশেষ অনুমতিও লাগবে এজন্য। আর এই দুই কাগজ আনতে পারলেই মায়ের মরদেহ নিয়ে ফিরতে পারবেন টোকন।


সময়নিউজ ডট নেট//সাফায়েত