বৃহঃস্পতিবার ১৯শে জুলাই ২০১৮ সকাল ১০:১৭:৫১

Print Friendly and PDF

এসএসসি পাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক!


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : সোমবার ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০১৭ রাত ১০:২৮:২৭, আপডেট : বৃহঃস্পতিবার ১৯শে জুলাই ২০১৮ সকাল ১০:১৭:৫১,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬০৬ বার

প্রতীকী ছবি

সময়নিউজ ডট নেট:
ঢাকা: ৪০ বছর বয়সী শরীফ আহমেদ। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে গিয়েছিলেন। পাট চুকাতে পারেননি। তাতে কী? তিনি এখন 'ডা. বি আর আহমেদ শরীফ, এমবিবিএস, এফসিপিএস (অর্থোপেডিক)'। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নিউ ওয়েলকেয়ার হাসপাতালের 'বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক'।

সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে খোদ প্রশাসনের নাকের ডগায় শরীফ আহমেদ দু'বছর ধরে হাসপাতালটিতে 'চিকিৎসা' দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। র‌্যাব সদস্যরা হাসপাতালটিতে টানা পাঁচ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছেন। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ভুয়া চিকিৎসক শরীফকে দুই বছরের দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

শুধু শরীফই নন, র‌্যাব ওই হাসপাতালের মালিক বাবুল হোসেনসহ আরও ১১ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।

গত রোববার রাত ১০টা থেকে সোমবার ভোর ৩টা পর্যন্ত র‌্যাব-২-এর সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম এ অভিযান চালান।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, নিউ ওয়েলকেয়ার হাসপাতালটিতে এর মালিক মাদকের আখড়া গড়ে তুলেছিলেন। গ্রেফতারের সময় একটি কক্ষে মালিক বাবুলসহ সাতজন বিদেশি মদ ও ইয়াবা সেবন করছিলেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী ওই রাতেই পঙ্গু হাসপাতাল থেকে চার দালালকে আটক করা হয়।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ভুয়া চিকিৎসক শরীফ একসময় পঙ্গু হাসপাতালের দালাল ছিলেন। ওই হাসপাতালের দালাল চক্রের মূল হোতা বাবুল হোসেন তাকে নিজের হাসপাতালে চিকিৎসক বানিয়ে দেন। এ চক্রটি গরিব রোগীদের পঙ্গু হাসপাতাল থেকে ওয়েলকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার নামে টাকা হাতিয়ে নিত। ন্যূনতম চিকিৎসা না জেনেও নানা ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার নামে টাকা নিত।

শরীফ নিজেও জানিয়েছেন, তিনি চিকিৎসক নন। মালিক বাবুলের নির্দেশে হাসপাতালে রোগীদের কাছে 'বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক' পরিচয় দিতেন। পুরনো ব্যবস্থাপত্র দেখে ওষুধের নাম লিখে দিতেন। তবে রোগীদের সেসব ওষুধ না খাইয়েই বিল করে টাকা নেওয়া হতো।

শরীফকে ছাড়াও র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাসপাতালটির মালিক আটক বাবুল হোসেনকে তিন বছর, তার সহযোগী প্রশান্ত হালদারকে তিন বছর, জাহিদ আহমেদ, সাদেক, রিয়াজ ও সোহাগকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া দেলোয়ার হোসেন, জাহিদ হোসেন, মিজানুর রহমান ও সাইফুলকে তিন মাস করে এবং মো. ইসলামকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।