বৃহঃস্পতিবার ২৩শে নভেম্বর ২০১৭ সকাল ০৭:৪৩:১০

Print Friendly and PDF

রাখাইনে সেই রাতের বর্ণনা


ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রকাশিত : শনিবার ৯ই সেপ্টেম্বর ২০১৭ রাত ০৮:৪৫:৪৬, আপডেট : বৃহঃস্পতিবার ২৩শে নভেম্বর ২০১৭ সকাল ০৭:৪৩:১০,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৭৪ বার

মংডুর উত্তর শিলখালীর পল্লী চিকিৎসক আবদুল আজিজ

সময়নিউজ ডট নেট:
ঢাকা: ‘গ্রামের চারদিকে হঠাৎ করেই গোলাগুলির শব্দ। চমকে উঠে ঘর থেকে উঠানে বের হই। দেখি পাশের গ্রামের বাড়িগুলো দাউ দাউ করে জ্বলছে। অগ্নিশিখা ও ধোঁয়ার কুন্ডলি আকাশে উড়ছে। মানুষ দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করে পালাচ্ছে। এসময় নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে বর্মী সেনারা। চোখের সামনে জুলেখা ও তার পরিবারের ছেলে মেয়ে, নাতনীসহ ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেলো। ব্রাশ ফায়ারে নিহত হলো জয়নাল ও আবুলের কিশোর পুত্র। আনজুল হোসেনের ছেলে বাইট্টাকে সরাসরি গুলি করেছে। বানু নামে এক মহিলাকে ঘরের ভিতর রেখে জ্বালিয়ে হত্যা করেছে’। ২৫শে আগস্ট সকাল বেলার এসব বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ডা. আবদুল আজিজ। সে মংডু থানার দক্ষিণ শিলখালী গ্রাম নিবাসী। এর আগে ১৯৭৮ সালেও শরনার্থী হিসেবে বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে প্রশিক্ষন নিয়ে ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত হন।

তিনি আরো জানান, ‘চোখের সামনে এভাবে হত্যার দৃশ্য দেখে আমি এক মুহুর্তও বাড়ীতে অবস্থান করিনি। পরিবারের ৮ সদস্যকে নিয়ে অন্যান্য পরিবারের মতো আমিও পাহাড়ের দিকে ছুটেছি। ওদিকে বর্মী সেনারা গ্রামের পর গ্রামে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। মানুষ প্রাণপন যেদিকে পেরেছে পালিয়েছে। এসময় নির্বিচারে পাখির মতো গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে অনেককে। পালানোর ওই সময়ে কে মরছে দেখার ফুসরৎ ছিলনা। একই গ্রামের ৪০ থেকে ৫০ টি পরিবার পাহাড়ে অবস্থান নেয়। পরের দিনে সেনাবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য রেখে সীমান্তের দিকে অগ্রসর হতে থাকি। এভাবে প্রায় ১৪ দিন অর্ধাহারে অনাহারে লুকিয়ে পাহাড়ি পথ দিয়ে হাঁটার পর দলবদ্ধ ভাবে গত বৃহস্পতিবার নাইক্ষ্যংদ্বিয়া সীমান্তে পৌঁছে শুক্রবার রাতে শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে এপারে ঢুকি।

ডা. আবদুল আজিজ জানায়, খবর নিয়ে জেনেছি উত্তর শীলখালী গ্রামে এক রাতেই ৭৩ জনকে পুড়িয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে। যুবতী মহিলাদের ধরে নিয়ে গেছে। আর ফিরে আসেনি। পথে ও ধানক্ষেতে নারী শিশুর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছি।