বুধবার ২৩শে মে ২০১৮ বিকাল ০৪:৫৫:২১

Print Friendly and PDF

ক্রাইম থ্রিলার লেখক নিজেই খুনি!


সাহিত্য ডেস্ক:

প্রকাশিত : সোমবার ২১শে আগস্ট ২০১৭ সকাল ০৯:২৯:৩২, আপডেট : বুধবার ২৩শে মে ২০১৮ বিকাল ০৪:৫৫:২১,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৫২ বার

সময়নিউজ ডট নেট:
ঢাকা: উপন্যাসের প্রতিটি শব্দ ও বাক্যে তিনি বুনতেন গা ছমছমে রহস্য। আর সেই উপন্যাসগুলোই লিউ ইয়ংবিয়াওকে লেখক হিসেবে খ্যাতি এনে দিয়েছিল। কিন্তু কে জানত, ২২ বছর আগে চারজনকে খুনের ঘটনায় চীনা সেই লেখককেই গ্রেফতার করবে পুলিশ! পুলিশি জেরায় সেই ভয়াবহ খুনের কথা স্বীকারও করেছেন তিনি।

লিউ এ খুনের ইঙ্গিত তার একটি উপন্যাসের মুখবন্ধে দিয়েছিলেন বলে অনেকের ধারণা। বইটির নাম ছিল ‘গিলটি সিক্রেট’। ২০১০ সালে প্রকাশিত বইটির মুখবন্ধে লিউ লিখেন, ‘এরপর আমি আর একটি উপন্যাস লিখছি। সেখানে রহস্য উপন্যাস লেখেন এমন একজন সুন্দরী লেখিকাকে শেষমেশ পুলিশ সিরিয়াল খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করে।

পরে তিনি তা স্বীকারও করে নেন। সেই বইয়ের নাম হবে, ‘দ্য বিউটিফুল রাইটার হু কিলড’। কিন্তু, এখনও বইটি প্রকাশিত হয়নি। তবে, এই মুখবন্ধের ওপর নির্ভর করে কিন্তু পুলিশ ২২ বছর আগের রহস্য উদ্ধার করেনি।

১৯৯৫ সালের ২৯ নভেম্বর। চীনের পূর্ব ঝেজিয়াং প্রদেশের একটি গেস্ট হাউসে খুন হন ৪ জন। তাদের মধ্যে ছিলেন ওই গেস্ট হাউসের মালিক দম্পতি এবং তাদের ১৩ বছরের নাতি। অন্যজন ওই রাতে গেস্ট হাউসের অতিথি ছিলেন।

সেসময় পুলিশ জানতে পারে, আনহুই প্রদেশ থেকে দুই অতিথি ওই রাতে গেস্ট হাউসে এসেছিল। মূলত, গেস্ট হাউসে অতিথিদের জিনিসপত্র ডাকাতির উদ্দেশেই তারা এসেছিল বলে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে। রাতে তারা প্রথমে এক অতিথির ঘরে ঢোকে। কিন্তু, তার ঘুম ভেঙে যাওয়ায় তিনি দুষ্কৃতদের জাপটে ধরেন। তখনই তারা দু’জনে মিলে খুন করে ওই ব্যক্তিকে। গোটা ঘটনার মোড় ঘোরানোর জন্য একে একে মালিক দম্পতি এবং তাদের কিশোর নাতিকেও খুন করা হয়।

এরপর পুরো ঘটনাটাই গাঢ় অন্ধকারে ঢেকে যায়। কোনো ক্লু খুঁজে না পাওয়ায় মামলাটি ফাইলের নিচে চাপা পড়ে। কিন্তু, চলতি বছরের জুন মাসে ফের মামলাটি সামনে আনে ঝেজিয়াং পুলিশ। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রায় ৬০ হাজার ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করা হয়।

এর সুবাদে ৫৩ বছরের লিউয়ের কাছে পৌঁছায় পুলিশ। ওই খুনের ঘটনায় ৬৪ বছরের ওয়াং নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘ জেরার পর দু’জনেই ২২ বছর আগের সেই খুনের কথা স্বীকার করেন।