শনিবার ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৮ দুপুর ০১:৩২:৩৩

Print Friendly and PDF

রোকেয়া দিবস আজ


নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত : শুক্রবার ৯ই ডিসেম্বর ২০১৬ সকাল ০৬:৪৩:৩১, আপডেট : শনিবার ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৮ দুপুর ০১:৩২:৩৩,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৮৪৭ বার

ফাইল ছবি
সময়নিউজ ডট নেট:
ঢাকা: বেগম রোকেয়া দিবস আজ। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারাদেশে দিবসটি পালিত হবে। নারী জাগরণের অগ্রদূত, খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুর এই দিনকে স্মরণীয় রাখতে দিবসটি পালিত হয়।

১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করে মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়া। সম্ভ্রান্ত ভূস্বামী জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ছিলেন তার পিতা। মাতা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী। তৎকালীন মুসলিম সমাজব্যবস্থা অনুসারে রোকেয়াকে ঘরে আরবি ও উর্দু শেখানো হয়।

তবে তার বড় ভাই ইব্রাহীম সাবের আধুনিকমনস্ক ছিলেন। তিনি রোকেয়া ও তার বোন করিমুন্নেসাকে ঘরেই গোপনে বাংলা ও ইংরেজি শেখান। ১৮৯৮ সালে ১৮ বছর বয়সে ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে রোকেয়ার বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে ‘বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন’ নামে পরিচিত হন তিনি। মুক্তমনের মানুষ সাখাওয়াত হোসেনের উৎসাহে বেগম রোকেয়া সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। ১৯০৯ সালে সাখাওয়াত হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। এর পাঁচ মাস পর ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ নামে একটি মেয়েদের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন বেগম রোকেয়া।

১৯১০ সালে সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলার ফলে স্কুল বন্ধ করে কলকাতায় চলে আসেন তিনি। এখানে ১৯১১ সালের ১৫ই মার্চ পুনরায় চালু হয় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল। প্রাথমিক অবস্থায় স্কুলে ৮ জন ছাত্রী ছিল। চার বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৮৪ জনে দাঁড়ায়। ১৯৩০ সালের মাঝে এটি হাই স্কুলে পরিণত হয়।

সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে তফসিরসহ কুরআন পাঠ থেকে আরম্ভ করে বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, ফারসি, হোম নার্সিং, ফার্স্ট এইড, রান্না, সেলাই, শরীরচর্চা, সঙ্গীত প্রভৃতি বিষয়ই শিক্ষা দেওয়া হতো। স্কুল পরিচালনা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বেগম রোকেয়া।

১৯১৬ সালে মুসলিম বাঙালি নারীদের সংগঠন ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করেন বেগম রোকেয়া। তার বারবার আবেদনের ফলেই ১৯১৯ সালে কলকাতায় ‘মুসলিম মহিলা ট্রেনিং স্কুল’ স্থাপন করে সরকার। ১৯২৬ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বাংলার নারী শিক্ষা বিষয়ক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বেগম রোকেয়া।

বেগম রোকেয়ার সাহিত্যকর্মে ফুটে উঠেছে সমাজের কুসংস্কার, অবরোধ প্রথার কুফল, নারীদের প্রতি সামাজিক অবমাননা, নারীর অধিকার। নারীশিক্ষার পক্ষে তার নিজস্ব মতামত, বাল্যবিবাহ এবং বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদও বাদ যায়নি তার লেখনীতে। তার রচনায় ফুটে উঠেছে এক প্রতিকূল সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের খণ্ড খণ্ড চিত্র।

বেগম রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খণ্ড: ১ম খণ্ড ১৯০৪, ২য় খণ্ড ১৯২২), সুলতানস ড্রিম (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮), পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪), অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি। এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

বেগম রোকেয়ার স্মরণে বাংলাদেশের রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তার পৈতৃক ভিটায় ৩ দশমিক ১৫ একর ভূমির উপর নির্মিত হয়েছে ‘বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র’। রংপুর বিভাগের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়’। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসনের জন্য ‘রোকেয়া হল।

রোকেয়া দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো রংপুরের পায়রাবন্দে আজ শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী রোকেয়া মেলা। এবারও প্রদান করা হবে রোকেয়া পদক। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বানী দিয়েছেন।