বুধবার ২৪শে জানুয়ারী ২০১৮ দুপুর ০১:১৭:৩২

Print Friendly and PDF

শৈশবের কিছু স্মৃতি গাথাঁ!


মাসুদ

প্রকাশিত : সোমবার ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০১৭ রাত ০৮:৫৪:১৫, আপডেট : বুধবার ২৪শে জানুয়ারী ২০১৮ দুপুর ০১:১৭:৩২,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৩১২ বার

এই তো কিছুদিন আগের কথা; আমি আকাশে ঘুড়ি উড়াই, মাটিতে লাটিম ঘুড়াই। সুযোগ পেলেই মহল্লার সমবয়সী ছেলেদের সাথে মার্বেল খেলি। কোনো কোনো দিন ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলা শেষে; কর্দমাক্ত শরীর নিয়ে পুকুরে গিয়ে ডুব মারি।

কখনো বা দুপুরে মাঠে ক্রিকেট খেলতে খেলতে তেজস্মী সূর্যের তপ্ত রোদে পুড়ে- আমার সমস্ত শরীরটা ক্লান্ত, ঘামে ভেজা হয়ে গেলে; চলে যাই কোনো এক গাছের নিচে বৃক্ষের সুশীতল ছায়ার মহাত্ম গ্রহণ করতে। আহা! সে কী দুর্দান্ত দিন ছিল, সে দিনগুলো!

Related image

সে দিনগুলো খুব বেশি আগেকার দিন নয়; যে দিনগুলোতে ফতুল্লা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য যে কোনো ধরণের ক্রিকেট ম্যাচ হলেই সেটা দেখতে আমি চলে যেতাম। ঘরোয়া লীগ, বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব উনিশের সিরিজের যে কোন ম্যাচ, বিসিবি বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টের প্রস্তুতি ম্যাচ, অনুর্ধ্ব উনিশ বিশ্বকাপ প্লেট ফাইনালের বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ, বাংলাদেশ-কেনিয়া ওডিআই সহ আরো কত কত ম্যাচ। তখন ফতুল্লা স্টেডিয়ামের একজন নিয়মিত দর্শক ছিলাম আমি, সে কথা বলা যেতেই পারে।

আমার এখন স্পষ্ট চোখে ভাসছে সে দিনটি; যেদিন আমরা ক্লাসের সব বন্ধুরা দলবেধে স্কুল পালিয়ে মাঠে গিয়েছিলাম ক্রিকেট খেলতে। খেলাকালীন অবস্হায় আমাদের হাই স্কুলের শ্রদ্ধেয় বাংলা শিক্ষক স্বয়ং মাঠে এসে উপস্হিত হলেন এবং আমি সহ আরো অনেক বাঁদড়কে পাকড়াও করলেন।

প্রথমেই তিনি আমাদের স্কুল ব্যাগ এবং প্রত্যেকের খুলে রাখা জুতো গুলোকে আটকে ফেললেন; যার কারণে আমরা পালাতে সুযোগ পাইনি, আমরা খেলায় এতটাই মগ্ন হয়ে ছিলাম যে, স্যার কখন আমাদের এত কাছে চলে এসেছেন আমরা সেটা
বুঝতেও পারিনি। কয়েকজন অবশ্য দৌঁড়ে পালিয়ে যায় ওদের ব্যাগ-জুতো রেখেই।

তারপর, আমাদের সবাইকে স্কুলে নিয়ে আসা হলো, শ্রদ্ধেয় হেডস্যার আমাদের সামনে আসলেন, আমাদেরকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে বেত্রাঘাত করতে লাগলেন যারা সারির সামনে ছিল তারা বেশি বেতের অাঘাত পেলো, আর যারা পেছনে তারা কম; কারণ- আমাদের হেডস্যার কাউকে মারলে কম মারতেন না। মারতেই থাকতেন, মারতেই থাকতেন। মারতে মারতে তিনি ক্লান্ত হয়ে গেলে পেছনে যারা ছিল তারা কম বেতের আদর পায়। খুব জোরে জোরে অবশ্য নয়, তিনি আস্তে আস্তেই বেত চালাতেন স্যারের সামনে একেকজন খুব ব্যথা পাবার সে কী সুনিপুণ অভিনয় করে গেল সেদিন, আহা। অথচ ক্লাসরুমে ফিরে এসেই হাসির বন্যা বয়ে গেল আমাদের সবার মাঝে।

অথচ, এরপর কেটে গেছে আরো দশটি বছর।

সময়, সে ঠিক ঠিক চলে যায়; চলতে থাকা ঘড়ির কাঁটায় টিক টিক শব্দ তুলে দিয়ে। যেতে থাকে সে- তাঁর নিজস্ব গতি অনুসারে।


সময়নিউজ ডট নেট//সাফায়েত