বৃহঃস্পতিবার ২২শে নভেম্বর ২০১৮ বিকাল ০৫:৩৭:১৬

Print Friendly and PDF

নিরাপদ সড়ক ও জাবি পরিস্থিতি


সম্পাদকীয়

প্রকাশিত : সোমবার ২৯শে মে ২০১৭ সকাল ০৭:১৭:৫৩, আপডেট : বৃহঃস্পতিবার ২২শে নভেম্বর ২০১৮ বিকাল ০৫:৩৭:১৬,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯৯৬ বার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় সতীর্থদের মৃত্যুর প্রতিবাদ করতে গিয়ে আটক হয়েছেন ৪২ জন শিক্ষার্থী। যে কোনো বিবেচনায়ই এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকাল বন্ধ ঘোষণাও কোনো সমাধান নয়। এতে শিক্ষার্থীরা যে কী অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন তার কোনো ইয়ত্তা নেই। প্রসঙ্গত বাসের ধাক্কায় দুই ছাত্রের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ-ভাংচুরের মুখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং গতকাল রোববার সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা অনুসারে গতকাল সকালে হল ছাড়েন শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোরে সাভারের সিঅ্যান্ডবি এলাকায় বাসের ধাক্কায় নিহত হন জাবির মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান রানা ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে তাদের ওপর টিয়ার সেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এ ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। শনিবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। সন্ধ্যায় অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় টিয়ার শেল ও রাবার বুলেটে দুই সাংবাদিকসহ ১৬ জন আহত হন। পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে উপাচার্যের বাংলোর ফটকের তালা ভেঙে ফেলে ভেতরে ঢুকে বিক্ষোভ করেন। রাত ১২টার দিকে উপাচার্যের বাংলোর সামনে থেকে আন্দোলনরত ৪২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। যাদের মধ্যে ১২ জন ছাত্রী। গতকাল রোববার তাদের কোর্টে হাজির করা হলে তারা জামিন পায়।

জাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও একজন শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। সারাদেশেই সড়কে প্রাণ যাচ্ছে। ব্যস্ততম ঢাকা-আরিচা রোডের পাশে অবস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আরিচা রোডের বেপরোয়া যানের চাকায় প্রায়ই পিষ্ট হচ্ছে অথচ এর কোনো প্রতিকার নেই। আন্দোলনের মুখে স্পিডব্রেকার বসানো হলেও স্মৃতিসৌধে ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের চলাচলের কারণে তা আবার উঠিয়ে নেওয়া হয়। ফলে অবস্থা তথৈবচ। আবার এটা নিয়ে আন্দোলন করতে গেলেও গণগ্রেফতারের শিকার হতে হয়। আন্দোলনের নামে ভাঙচুর যেমন কাম্য নয় তেমনি আন্দোলন থামানোর জন্য গণগ্রেফতার ও বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকাল বন্ধ করাও কোনো সমাধান নয়। সবার আগে প্রয়োজন সড়কে নিরাপত্তা। আর যেন কোনো প্রাণ ঝরে না যায় যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে। আর শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখাও জরুরি।

 

সময়নিউজ ডট নেট//সাফায়েত