মঙ্গলবার ১৯শে জুন ২০১৮ রাত ০৯:৪৫:১৪

Print Friendly and PDF

টিকিট প্রাপ্তি নিশ্চিত করুন


সম্পাদকীয়

প্রকাশিত : শনিবার ১০ই জুন ২০১৭ দুপুর ০১:০২:৫৬, আপডেট : মঙ্গলবার ১৯শে জুন ২০১৮ রাত ০৯:৪৫:১৪,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৭৮ বার

ঈদে নাড়ির টানে যারা বাড়ি যান তাদের কাছে খুব কাঙ্খিত বিষয় হচ্ছে বাস, লঞ্চ, বা ট্রেনের টিকিটের সহজ প্রাপ্তি। ঘরমুখোদের এ স্বাভাবিক প্রত্যাশা থাকলেও প্রাপ্তির বেলায় এর বিস্তর ব্যবধান ঘটে। অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু না হতেই পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। রাতভর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট পাওয়া যায় না। অথচ বেশি দামে সেই টিকিটই কালোবাজারিতে পাওয়া যায়। ফি বছর এ অবস্থা চললেও এ বছর তা থেকে উত্তরণ ঘটবে বলে আশা করা যায়। সেজন্য কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটে লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ১৩ জুন থেকে। আর ঈদের বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু হচ্ছে আগামী ২৩ জুন থেকে। এই বিশেষ সার্ভিসে মোট ১৬টি লঞ্চ যুক্ত হতে যাচ্ছে। এতে করে যাত্রী বিড়ম্বনা অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) কর্মকর্তারা। আসন্ন ঈদে ঘরমুখী মানুষের জন্য ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটের বেসরকারি লঞ্চগুলোর অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ১৩ জুন মোতাবেক ১৭ রমজান থেকে। চলবে ১৫ জুন অর্থাৎ ১৯ রমজান পর্যন্ত। ঢাকা থেকে বরিশাল আসা ও বরিশাল থেকে ঢাকায় ফেরার উভয় টিকিট ওই তারিখ বিক্রি করা হবে।

অতীত অভিজ্ঞতা হচ্ছে, বিক্রির শুরুর দিনই টিকিট সংকট দেখা দেয়। ট্রেন, লঞ্চ, বাস সবক্ষেত্রেই একই অভিযোগ। ট্রেনে কোটা পদ্ধতির কারণে সাধারণ যাত্রীরা বঞ্চিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভিআইপিসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বরাদ্দ দেওয়া টিকিট নিজেরাই কিনে নিয়ে উচ্চ দামে তা যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে। এছাড়া টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ তো অনেক পুরনো। দেখা যায় সারারাত টিকিটের জন্য অপেক্ষা করেও যাত্রীরা টিকিট পায় না। আবার বেশি মূল্য দিলেই ভিন্ন পথে তা পাওয়া যায়। এই কালোবাজারি বন্ধ করতে হবে। যাত্রীরা যাতে সহজেই টিকিট পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে এ জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালাতে হবে। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় রোধ করতে হবে। এছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইনের ব্যাপারে। ফিটনেসবিহীন লঞ্চ যাতে চলতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করাও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এক্ষেত্রে যাত্রী সচেতনতাও অত্যন্ত জরুরি।

দূরপাল্লার বাসগুলো যাতে ঈদের সময় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষকে নজরদারি চালাতে হবে। অননুমোদিত বাস চলাচলের ব্যাপারেও দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ ঈদে মুনাফার লোভে লোকাল বাসও হাইওয়েতে চলে। এগুলোর ফিটনেস না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তা থেকে নষ্ট বাস সরানোর তেমন কোনো ব্যবস্থা থাকে না। এ কারণে দেখা দেয় তীব্র যানজট।

বিপুল সংখ্যক মানুষ যারা মাটির টানে প্রিয়জনের সান্নিধ্যে ঈদ করতে গ্রামে যাবেন তাদের আনন্দ যেন যাত্রাপথের ভোগান্তিতে নষ্ট না হয়ে যায় সেইদিকে নজর দেওয়াই এখনকার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। এ ব্যাপারে কোনো উদাসীনতা কাম্য নয়।

 

সময়নিউজ ডট নেট//সাফায়েত