শুক্রবার ২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সকাল ০৮:০৬:২৭

Print Friendly and PDF

নতুন সেবা নিতে গ্রাহকের সিম বদলানোর পরামর্শ। সেবার মান নিশ্চিত করতে নতুন করে বিনিয়োগ করবে অপারেটররা। ফোর-জি চালুর প্রস্তুতিতে অনেকটাই পিছিয়ে সরকারের মালিকানাধীন টেলিটক।দেরি করবে না তিন অপারেটর


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : বুধবার ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বিকাল ০৩:৪৩:৪৩, আপডেট : শুক্রবার ২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সকাল ০৮:০৬:২৭,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯১ বার

তরঙ্গ নিলাম শেষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ (মাঝে)। গতকাল রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে।

লাইসেন্স পাওয়ার পরপরই গ্রাহকদের জন্য চতুর্থ প্রজন্মের (ফোর-জি) টেলিযোগাযোগ সেবা চালু করতে চায় তিন বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ১৯ ফেব্রুয়ারি অপারেটরদের এ লাইসেন্স দেবে। বাংলালিংক ২০ ফেব্রুয়ারি এ সেবা চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। গ্রামীণফোন ও রবি নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানায়নি। তবে তারাও লাইসেন্স পাওয়ার পরপরই এ সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বেসরকারি অপারেটররা এগিয়ে থাকলেও ফোর–জি চালুর প্রস্তুতিতে অনেকটাই পিছিয়ে আছে সরকারের মালিকানাধীন মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ফোর-জি সেবা চালুর নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ এখনো ঠিক করতে পারেনি টেলিটক।

বিটিআরসির তরঙ্গ নিলামের পরে ফোর-জি নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি জানাতে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে গ্রামীণফোন। সেখানে জানানো হয়, গ্রাহককে সবচেয়ে ভালো মানের ফোর-জি সেবা দিতে ১ হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ৫ মেগাহার্টজ নতুন তরঙ্গ কেনা হয়েছে। এতে গ্রামীণফোনের মোট তরঙ্গের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ মেগাহার্টজ, যা সব অপারেটরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া ৯০০ ও ১ হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে মোট ২২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ প্রযুক্তি নিরপেক্ষ করা হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকেরা ইন্টারনেটে নিরবচ্ছিন্ন এইচডি (হাই ডেফিনেশন) প্রযুক্তির ভিডিও কল, অনলাইনে সরাসরি টেলিভিশন দেখা ও দ্রুতগতিতে যেকোনো ফাইল ডাউনলোড করতে পারবেন। আগ্রহী গ্রাহকদের যত দ্রুত সম্ভব পুরোনো সিম কার্ড বদলে ফোর-জি উপযোগী সিম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইকেল ফোলি বলেন, তরঙ্গ নিলামের মাধ্যমে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। দেশে সফলভাবে ফোর-জির বিস্তার ও এর ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিত করতে সরকার যৌক্তিক নীতি গ্রহণ করবে। গ্রাহককে সর্বোচ্চ মানের ফোর-জি সেবা দিতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ জন্য নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে।

গ্রাহকসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা রবি জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকেই ফোর-জি সেবা দেওয়ার জন্য অপারেটরটি প্রস্তুত। অপারেটরটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, লাইসেন্স পাওয়ার পরপরই অন্য অপারেটরদের চেয়ে বেশি শহরে ফোর-জি চালু করবে রবি। বিভিন্ন ব্যান্ডে যে পরিমাণ তরঙ্গ এখন আছে, তা দিয়ে মানসম্মত সেবায় রবি সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে। তাঁর মতে, ফোর-জি সেবার বিস্তারে এ প্রযুক্তি উপযোগী স্মার্টফোন একটি বড় বাধা। ফোর-জি স্মার্টফোনের ব্যবহার যত বাড়বে, এ সেবা ততই সহজলভ্য হবে।

তিনটি ব্যান্ড মিলিয়ে বর্তমানে রবির হাতে মোট তরঙ্গ রয়েছে ৩৬ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ। গতকালের নিলামে অংশ না নিলেও তরঙ্গ ব্যবহারে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার জন্য সবার আগে আবেদন করেছে অপারেটরটি। এ জন্য বিটিআরসিকে ৩৭১ কোটি টাকা দিয়েছে রবি।

ফোর-জি নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি জানাতে ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে আরেক অপারেটর বাংলালিংক। এতে বক্তব্য দেন বাংলালিংকের সিইও এরিক অস ও প্রধান করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা তাইমুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গতকালের তরঙ্গ নিলামে নতুন কেনা ১০ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ যোগ হলে অপারেটরটির তরঙ্গের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ। এতে বাংলালিংকের সেবার মান অনেকটাই উন্নত হবে। ফোর-জির জন্য সবচেয়ে উপযোগী ব্যান্ড ১ হাজার ৮০০ মেগাহার্টজে ১৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ দিয়ে গ্রাহকদের উচ্চমানের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

বাংলালিংকের সিইও এরিক অস বলেন, ৩ কোটির বেশি গ্রাহককে সেবা দেওয়ার জন্য যে তরঙ্গ কেনা হয়েছে, তা যথেষ্ট। তরঙ্গ কেনাসহ নেটওয়ার্ক উন্নয়নে আগামী তিন বছরে ৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে এরিক অস বলেন, ফোর-জি ইন্টারনেটের খরচ খুব বেশি হবে না। এর দাম এমনভাবে ঠিক করা হবে, যাতে গ্রাহকেরা খুশি থাকেন।