বুধবার ২৩শে মে ২০১৮ সকাল ০৯:২৩:০১

Print Friendly and PDF

রাজস্ব প্রশাসনে পদোন্নতি জট খুলেছে


সময়নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত : রবিবার ২২শে এপ্রিল ২০১৮ বিকাল ০৪:৪১:৪৪, আপডেট : বুধবার ২৩শে মে ২০১৮ সকাল ০৯:২৩:০১,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৭৯ বার

ব্যাচের মেধাবী কর্মকর্তা। কোনো অভিযোগ নেই। বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) সর্বোচ্চ নম্বর। সব ধরনের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি হয়নি।

অথচ জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে তারই ব্যাচমেটদের দেয়া হয়েছে পদোন্নতি। এর একটাই কারণ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সর্বোচ্চ কর্মকর্তার বিরাগভাজন হওয়া।

নানা অজুহাতে কাস্টমস এবং আয়কর ক্যাডারের অসংখ্য মেধাবী কর্মকর্তাকে এভাবে শুধু পদোন্নতিবঞ্চিত করাই হয়নি, দেয়া হয়েছে খারাপ পোস্টিং। শেষপর্যন্ত এসব হতভাগ্য কর্মকর্তার কপালে পদোন্নতি জুটেছে। দীর্ঘদিন পর রাজস্ব প্রশাসনে পদোন্নতি জট খুলেছে।

জানা গেছে, এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া দায়িত্ব নেয়ার পর বিসিএস (শুল্ক ও ভ্যাট) অ্যাসোসিয়েশন পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের বিষয়টি তার নজরে আনেন।

তিনি স্বাভাবিক নিয়মে পদোন্নতির ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে আয়কর এবং শুল্ক উভয় ক্যাডারের বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি এনবিআরের সদস্য এবং কমিশনার পদে চলতি দায়িত্বে থাকা আরও কয়েকজন কর্মকর্তার পদ নিয়মিত করা হয়েছে। এতে দুই ক্যাডারের সব স্তরের কর্মকর্তারা উচ্ছ্বসিত।

আইআরডি সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের শুরু থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ৮টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৩৫ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

আগামীতে আরও পদোন্নতি দেয়া হবে- এমন আভাস পাওয়া গেছে। এতে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে পদোন্নতি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া শনিবার বলেন, দীর্ঘদিন যাবত এনবিআরে পদোন্নতি বন্ধ ছিল। অনেকে ৪-৫ বছরেও পদোন্নতি পাননি। যারা যোগ্য তারা সবাই ধীরে ধীরে পদোন্নতি পাবেন। কেউ বাদ যাবে না।

অন্যায়ভাবে পদোন্নতিবঞ্চিত হওয়া কর্মকর্তাদের একজন যুগ্ম কমিশনার শওকত আলী সাদী। কাস্টমস ক্যাডারের ২১ ব্যাচের প্রথম এই কর্মকর্তার অপরাধ তিনি এনবিআরের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়।

মেধাবী এই কর্মকর্তা চলতি দায়িত্বে অতিরিক্ত কমিশনার থাকলেও ব্যাচে তার জুনিয়রদের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে নিয়মিত করা হয়েছে অনেক আগেই।

এভাবে একই ক্যাডারের ২২তম ব্যাচের প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ও তাসনিমুর রহমান পদোন্নতি না পেয়ে দীর্ঘদিন যুগ্ম কমিশনার হিসেবেই দায়িত্বরত ছিলেন।

এই দু’জনসহ পাঁচজন ছিলেন কোনো কারণ ছাড়াই পদোন্নতিবঞ্চিত। তারা ছিলেন এনবিআরের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরাগভাজন। অথচ তাদের ব্যাচমেট অন্য সবাই হয়েছেন অতিরিক্ত কমিশনার।

এ ধরনের শুধু কাস্টমস ক্যাডার নয়, আয়কর ক্যাডারেও ছিল। আয়করের অনেক কমিশনার চলতি দায়িত্বে ৪-৫ বছর যাবত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। অথচ পদোন্নতি পাচ্ছিলেন না।

শেষপর্যন্ত কাস্টমসের ২১ ও ২২ ব্যাচের বঞ্চিত কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেয়েছেন। তারা হচ্ছেন- শওকত আলী সাদী, শেখ আবু ফয়সাল মো. মুরাদ, মুহাম্মদ রাশেদুল আলম, মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ও তাসনিমুর রহমান।

এছাড়া মাহফুজুল হক ভূঞা ও মির্জা সহিদুজ্জামান নামে দুই কর্মকর্তাকে যুগ্ম কমিশনার পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। লুৎফুল কবির নামে এক সহকারী কমিশনারকে উপ-কমিশনার পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

সদস্য ও কমিশনারদের পদোন্নতি: কাস্টমস ক্যাডারে এনবিআরের চলতি দায়িত্বে থাকা সদস্য আবু ফয়সাল মো. শাহরিয়ার মোল্লা ও শাহনাজ পারভীনকে জাতীয় বেতন স্কেলের ২নং গ্রেডে সদস্য হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

এছাড়া আয়কর ক্যাডারের সদস্য হিসেবে চলতি দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রহমান আখন্দ, রওশন আরা আক্তার, আরিফা শাহানা ও কানন কুমার রায়কে সদস্য হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

এর বাইরে ১৭ কর কমিশনারকে চলতি দায়িত্ব থেকে কমিশনার হিসেবে নিয়মিত করা হয়েছে। এরা হলেন- ঢাকা ট্যাকসেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালের সদস্য মাহমুদুর রহমান, ঢাকা ট্যাকসেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালের সদস্য মোহাম্মদ জাহিদ হাছান ও চট্টগ্রাম ট্যাকসেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালের সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ। এরা সবাই চলতি দায়িত্বে ট্যাকসেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আরও ১৪ জনকে চলতি দায়িত্ব থেকে পদোন্নতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিশনার করা হয়েছে। এরা হলেন- সামস উদ্দিন আহমেদ, আতিয়ান নাহার, মোহা. আবু তাহের, সোয়ায়েব আহমেদ, হুমায়রা সাইদা, মাহবুবা হোসেইন, আবদুল বাতেন, মোতাহার হোসেন, হারুন অর রশীদ, খন্দকার মো. ফেরদৌস আলম, রেজাউল করিম চৌধুরী, সুলতানা আহমেদ, নাজমুল করিম ও এমএম ফজলুল হক। এদের মধ্যে অনেকে ৫ বছর পর্যন্ত চলতি দায়িত্বে কমিশনার পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। -যুগান্তর