বৃহঃস্পতিবার ২২শে নভেম্বর ২০১৮ বিকাল ০৪:৩১:২১

Print Friendly and PDF

সালাম সাকলাইনের কবিতা


সাহিত্য ডেস্ক:

প্রকাশিত : বুধবার ২১শে নভেম্বর ২০১৮ সকাল ১১:২৭:২২, আপডেট : বৃহঃস্পতিবার ২২শে নভেম্বর ২০১৮ বিকাল ০৪:৩১:২১,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ২০ বার

হৃদয়ের কথা

অতিশয় ও অভাবিত সুন্দর ধামরাইতে
পূজা দেখতে এসো
না না, আমি তোমার আকাশ হবো না
তুমি পূজার ছলে আরো কিছু দেখতে পারো
খুব ভালো হয় যদি তুমি তাকে নিয়ে বৃষ্টির গান গাও
তোমার হৃদয় করো আকাশ
সেখানে মেঘ মালতী রাগে সুর তোলো
তখন বৃষ্টি হবে রিম ঝিম রিম ঝিম ...


নীল পাহাড়ি মেয়েটি

নীল পাহাড়ের শরীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছিল
নীল পাহাড়ি নন্দিতা মেয়েটি
তার ভরা যৌবনে পাহাড়ি সবুজ
বেহিসেবী অবুঝ শরীরে তার ফুলঝুরি স্তন
ঝরনার জলে ভাসে
ভাসে আর হাসে বায়ুভরে উড়ে যায়
তার সুবাস
তার ভেজা ঠোঁট কামে ঘামে অধির
দুচোখের পাতায় লীলারঙ্গ নিতি নৃত্যে বিভোর
নীল পাহাড়ে একা একা দেখি তারে
লতা পাতা অলংকারে কি রূপের রোশনাই দেখি
নীল পাহাড়ে
নীল পাহাড়ি নন্দিতা মেয়েটি
বুকের ভালোবাসায় স্নিগ্ধ করো বুক
সমতলের ভালোবাসায় রাঙ্গাতে দাও
তোমার রাই নন্দিনী চিবুক

অমৃত গরলের সাজা

দীঘল নয়না মনসা হয়ে দংশিলে আমাকে
আবার অশুচি বিবেচনায় ভাসালে
বেহুলা লখিন্দরের ভেলায়
আমি ভাটির জলে একাকী বিরলে
আর কত কাল ভেসে ভেসে যাবো।
তোমার সুতীব্র স্তন যদি হয় গরলের ভাণ্ড
পদ্মসম বাহু পটে থাকে যদি সর্পিল বিড়ম্বনা
আমাকে দাও সেই গরলের ভাণ্ড
তোমার বাহুর পেষণে দাও আজীবন সাজা
বার বার আমি মরি বার বার ভেসে যাই
গাঙুরের জলে বেহুলা লখিন্দরের ভেলায়
এক ভাটির দেশ থেকে আরেক ভাটির দেশে।

আমি কখনো বদলে যাবো না

পিতার কাছে এই আমার শপথ
আমি কখনো বদলে যাবো না।
আমার শরীরের ঘ্রাণে, রক্ত কণায়
আদি পিতার ইতিহাসের নন্দিত সুভাস
আমি কখনো বদলে যাবো না
এই আমার অহংকার।
আমি বয়ে চলেছি হাজার বছরের শোক
দেশি বিদেশি শাসন শোষণের কালো দাগ
মহামারী আর জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডব।
এইসব ক্ষতের যাতনা বহন করে
আমি ছিনিয়ে এনেছি একাত্তরের গৌরব গাথা
সেসব ধুয়ে মুছে বদলে দেবে এমন সাধ্য কার?
এই আমি, এই আমার, সকলি আমার মতো
এই আমার অহংকার।
যারা বদলে যায়, বদলাতে চায়
তারা অভিশপ্ত হোক
বদলবাজির এই প্রবল প্রতাপের বিপরীতে
আমি একা আছি সারা জীবন
পিতার কাছে আমার শপথ
আমি কখনো বদলে যাবো না।

কার জন্য কবিতা

মৃতের নগরীতে কার জন্য কবিতা
কার কাছে তোমার স্নিগ্ধ শরীর,
মায়াবী চোখের কথা বলবো
বায়ু পরশে কাফনের স্পর্ধা বিকশিত হয়
কেবল থেমে থাকে
নগর মানুষের হৃদ-স্পন্দন।

তার সুবাস

দুরন্ত মেঘে ভেসে আসে
এক নীলবসনা নারীর
দীপ্র সুগন্ধি সুবাস,
কোন আষাঢ়ের ফুটন্ত কদমকলি
কোন কুলের আগুনমুখি কৃষ্ণনয়না
সৌম্য প্রেমিক চিনে শুধু তারে।
মহাদেবের সাগর মন্থনে অমৃত লীলাবতী
কামিনী কুসুমের মোহ শয্যায়
অমরাবতীর কূলে কূলে বাসন্তি বেগে
নীল উড়নি তার ঘূর্ণি দোলায়
অমরাবতীর দু’কূল ভাসায়।
ভেসে যায় ফুল পাখি নগর সাগর
আমি শুধু বিলাসী ভ্রমর
চেয়ে দেখি তারে বিশ্বাসে ভজনা করি
তার দীপ্র সুগন্ধি সুবাস।