বৃহঃস্পতিবার ১৯শে এপ্রিল ২০১৮ বিকাল ০৩:৪৪:৫৭

Print Friendly and PDF

ব্যাংক মালিকদের দাবি মানলে দুর্নীতিবাজরা সুরক্ষা পাবে: টিআইবি


সময়নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত : বুধবার ৪ঠা এপ্রিল ২০১৮ বিকাল ০৪:২৯:২০, আপডেট : বৃহঃস্পতিবার ১৯শে এপ্রিল ২০১৮ বিকাল ০৩:৪৪:৫৭,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩০২ বার

ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ বন্ধ করতে হবে- ব্যাংক মালিকদের এ ধরনের দাবির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের দাবি অন্যায়, অযৌক্তিক এবং উদ্বেগজনক।

সরকার বিষয়টি মেনে নিলে দুর্নীতিবাজরা আরও সুরক্ষা পাবে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন (বিএবি) ব্যাংক ও আর্থিক খাত নিয়ে গণমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে সরকারের সহায়তা চায়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকিং রিপোর্টিং আইন করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

বিএবির যুক্তি হল- নেতিবাচক সংবাদের কারণে ব্যাংকের গ্রাহকের আস্থা নষ্ট হয়। এর পরই প্রস্তাবটি নির্দ্বিধায় প্রত্যাখ্যান করার জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি জানিয়ে বিবৃতি দিল টিআইবি। বিবৃতিতে ব্যাংকিং খাতে চলমান সংকট নিরসনে নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নেয়ার জন্য আবারও সুপারিশ করে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি।

বিবৃতিতে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমের সংবাদ থেকে জানা গেছে, নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ থেকে সংবাদমাধ্যমকে বিরত রাখতে ব্যাংক রিপোর্টিং অ্যাক্ট করার সুপারিশ করেছে বিএবি।

প্রস্তাবটি শুধু উটপাখি সমআচরণের বহিঃপ্রকাশই নয়, এটি ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়াতির তথ্য গোপন রেখে দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দেয়ার অপচেষ্টা। কোনো অবস্থায়ই এ ধরনের জনস্বার্থবিরোধী প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত বাস্তবে জনগণের অর্থের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ খাতের ইতিবাচক সংবাদের পাশাপাশি দুর্নীতি, অনিয়মসহ সব ধরনের তথ্য জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।

আর তথ্য প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তারের কোনো অধিকার জনগণ ব্যাংক মালিকদের দেয়নি। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক রিপোর্টিং আইনের অবশ্যই প্রয়োজন।

তবে তা দুর্নীতি, অনিয়ম, জালিয়াতির তথ্য প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার জন্য নয়, বরং এ ধরনের তথ্য যেন অবাধে প্রকাশিত হতে পারে, তার উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্য।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের মতে, স্বার্থান্বেষী মহলের চাপে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক সংকটে পড়েছে ব্যাংকিং খাত। এরপর এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে খাতটিকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত না করতে সরকারকে প্রতি আহ্বান জানান তিনি।