সোমবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৭ সকাল ০৬:৫৯:৪৮

Print Friendly and PDF

প্রাথমিক স্তরে পরীক্ষা একেবারেই অনাবশ্যক: ড. আনিসুজ্জামান


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : বুধবার ২২শে নভেম্বর ২০১৭ রাত ০৮:০৪:২৪, আপডেট : সোমবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৭ সকাল ০৬:৫৯:৪৮,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৬৬ বার

ফাইল ফটো

বরেণ্য শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেছেন, দেশে এখন সব শিক্ষাব্যবস্থা পরীক্ষাকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে শিক্ষক -শিক্ষর্থীরা নৈতিকতা হারাবে। একের পর এক পরীক্ষার চাপে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নষ্ট হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নেই বললেই চলে। প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল খুবই জরুরি।

বুধবার দুপুরে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির কনফারেন্স হল রুমে 'সহজপাঠ'এর আয়োজনে 'শিশুর সামগ্রিক বিকাশ' শীর্ষক এক আলোচনা চক্রে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার গলদ তুলে ধরার পাশাপাশি প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির সমালোচনা করেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, এখন শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য ভালো শিক্ষা পাওয়া নয়, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে কী করে প্রথম হওয়া যায়। আজকাল শিশুদের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে আনন্দযোগ নেই। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা শোচনীয়। এখানে শিশুদের পরীক্ষার নামে রীতিমতো পীড়ন করা হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থা এখন পরীক্ষাসর্বস্ব, জ্ঞান ও শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক আমরা নষ্ট করে ফেলছি।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আমি এবং শিক্ষাবিদরা যখন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় নৃত্যকলা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছিলাম, তখন মৌলবাদীদের একটি দল এর বিরোধিতা করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে তারা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থায় 'নৈতিক শিক্ষা'কে অগ্রাধিকার দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার কর্মকর্তারা তাদের সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে মাদ্রাসায় ধর্মভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করেন।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলনে, আমরা যতবার পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ ও বদল করতে চেয়েছি, ততবারই আমাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম, পাবলিক পরীক্ষার নম্বরে একটি অংশ স্কুল থেকে আসবে। কিন্তু তা আজও করতে পারিনি। সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়পক্ষ এখনও খাপ খাইয়ে নিতে পারছে না বলেও মনে করনে তিনি।

লেখক আবুল মোনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়রে এডুকেশন অ্যান্ড কাউন্সিলিং সাইকোলজির অধ্যাপক শাহীন ইসলাম, শিশু অধিকারকর্মী নুরুন্নাহার নূপুর, লেখক আনিসুল হক এবং সহজপাঠ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।