শুক্রবার ২৫শে মে ২০১৮ সকাল ০৮:২৬:২৮

Print Friendly and PDF

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি না করার আহ্বান ঢাবি শিক্ষক সমিতির


বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা:

প্রকাশিত : মঙ্গলবার ২৪শে এপ্রিল ২০১৮ সন্ধ্যা ০৭:৫৬:৩৫, আপডেট : শুক্রবার ২৫শে মে ২০১৮ সকাল ০৮:২৬:২৮,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৭৬ বার

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের এবং নিরপরাধ কোনও ব্যক্তি ও তাদের আত্মীয়স্বজনকে কোনও ধরনের হয়রানি না করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষক সমিতির বক্তব্য জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।

এসময় উপাচার্য বাসভবনে হামলার ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বানও জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিক্ষক সমিতির সদস্য ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক কবি মুহাম্মদ সামাদ।

লিখিতে বক্তব্যে তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে শিক্ষক সমিতি যুগোপযোগী ও যৌক্তিক বলে মনে করে। সে আলোকে শিক্ষক সমিতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নৈতিক সমর্থনের জন্য সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করা যায় যে, শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবিকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

মুহাম্মদ সামাদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুল তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি গোষ্ঠী অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টাকে ছাত্র-শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে রুখে দিবে।

তিনি বলেন, সর্বশেষ কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানতে পারেন যে কয়েকজন শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য প্রচার করে হলে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। হলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হল কর্তৃপক্ষ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে স্থানীয় অভিভাবকের কাছে তুলে দেয়। কিন্তু এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য গুজব ছড়ানো হয় যে, হলের অনেক ছাত্রীকে মধ্য রাতে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে যা মোটেও সত্য নয়। এসব গুজবের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রকে অশান্ত করে তোলা। এছাড়া উপাচার্য বাসভবনে হামলা ভাংচুর ও হত্যা চেষ্টাকে গৌণ করে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করা।

সংবাদ সম্মেলনে কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্র সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে সুফিয়া কামাল হলে কিছু অনাকাঙিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, ছাত্রীদের উত্তেজিত করতে গুজবই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, হলের বেশ কয়েকজন মেয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছিল এই বলে যে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আসলে বিশ্ববিদ্যালয় তো এশার লাঞ্ছনার ঘটনায় কাউকে বহিষ্কার করেনি। তাছাড়া ওইদিন দুপুরে হলের কিছু মেয়ে সন্দেহজনকভাবে করিডোরে ঘোরাঘুরি করছিল। তাই আমরা হল প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে অভিভাবকদের কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে এই সমস্যা নিরসন করতে চেয়েছিলাম।

তবে গত ১৯ এপ্রিল গণমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেছিলেন, ‘এশার লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িত ২৬ জনকে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানো হয়েছে। যেখানে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে এই ঘটনার দায়ে কেন তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে না।’

‘এই নোটিশ কি ছাত্রীদের উৎকণ্ঠিত করে না?’ এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা বলেন, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। এই ব্যাপারে হল প্রশাসন কিছুই জানে না।

হলের দুই হাজার মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে দেওয়ার কথার একটি অডিও টেপ ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এই নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে অনেক।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঘটনাটি স্বীকার করে হল প্রাধ্যক্ষ বলেন, এশাকে লাঞ্ছনার বিষয়ে আমি হলের মেয়েদের বলেছিলাম যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু মেয়েরা বলছিল, ‘আমরা সবাই ওই সময় উপস্থিত ছিলাম। সুতরাং আপনি নির্দিষ্ট কয়েকজনকে বহিষ্কার করতে পারেন না। বহিষ্কার করলে সবাইকে করতে হবে।’ তখনই আমি এই কথাটি বলেছিলাম। তবে যে অডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে সেখানে অসম্পূর্ণ তথ্য রয়েছে। কারণ শিক্ষার্থীরা আগে পরে অনেক কিছু বাদ দিয়ে মাঝখানের অংশটা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইমদাদুল হক, মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নিজামুল হক ভুঁইয়া, রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদা প্রমুখ।