মঙ্গলবার ২৩শে অক্টোবর ২০১৮ দুপুর ০১:৪৬:৫৩

Print Friendly and PDF

আজ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের অনশন


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : মঙ্গলবার ৯ই জানুয়ারী ২০১৮ সকাল ১০:০১:২৮, আপডেট : মঙ্গলবার ২৩শে অক্টোবর ২০১৮ দুপুর ০১:৪৬:৫২,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৭৯ বার

নিবন্ধন পাওয়া সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অষ্টম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষকেরা।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নিবন্ধন পাওয়া সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে আজ মঙ্গলবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করবেন ওই সব মাদ্রাসার শিক্ষকেরা। লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির অষ্টম দিনের মাথায় গতকাল সোমবার আন্দোলনকারী বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির নির্বাহী কমিটির সভায় নতুন এই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান গতকাল বলেন, লাগাতার কর্মসূচির পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের প্রতিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়ার পরও সরকারের পক্ষ থেকে তাঁরা কোনো সাড়া পাননি। তাই তাঁরা আজ (মঙ্গলবার) থেকে আমরণ অনশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বেলা ১১টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচির স্থলেই এই অনশন শুরু হবে।

নিবন্ধনকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তাঁরা। গতকাল সকালে ও বিকেলে দুই দফায় অবস্থান কর্মসূচিতে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র শীতে জবুথবু হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষকেরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

১ জানুয়ারি থেকেই সেখানে আছেন পটুয়াখালীর কুয়াকাটার চর ধুলাশ্বার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শরীফ উল্লাহ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের মাদ্রাসাটি ১৯৮৪ সাল থেকে নিবন্ধনকৃত। আর তিনি চাকরি করছেন ১৯৯৮ সাল থেকে। কিন্তু সরকার থেকে কোনো বেতন-ভাতা পান না। তাই এবার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকবেন।

একাধিক শিক্ষক জানান, কর্মসূচির কারণে তাঁদের মাদ্রাসাগুলোর বেশির ভাগই এখন বন্ধ। তাহলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে না—এমন প্রশ্নে সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে, কিন্তু তাঁরাও তো মরে যাচ্ছেন। অবশ্য দাবি পূরণ হলে পরে তা পুষিয়ে দেবেন বলে জানান তিনি।

সারা দেশে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ১৮ হাজার ১৯৪টি হলেও চালু আছে ১০ হাজারের মতো। এসব মাদ্রাসায় শিক্ষক আছেন প্রায় ৫০ হাজার। এর মধ্যে ১ হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসার ৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষক সরকার থেকে কিছু ভাতা পান। প্রধান শিক্ষকেরা মাসে আড়াই হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকেরা পান ২ হাজার ৩০০ টাকা। অন্যরা সরকার থেকে কোনো বেতন-ভাতা পান না।