রবিবার ১৯শে আগস্ট ২০১৮ দুপুর ০১:৩১:১০

Print Friendly and PDF

৮ মাসের শিশুকেও রেহাই দিল না ইসরাইলি স্নাইপাররা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশিত : বুধবার ১৬ই মে ২০১৮ বিকাল ০৩:২৫:৫৭, আপডেট : রবিবার ১৯শে আগস্ট ২০১৮ দুপুর ০১:৩১:১০,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৬৬ বার

ছবি: এএফপি

আট মাসের প্রাণহীন শিশুকন্যাকে বুকে নিয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন এক অসহায় ফিলিস্তিনি মা। ইসরাইলি কাঁদানে গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটি মারা গেছে।

১৭ বছর বয়সী মালিয়াম গানদুর বলেন, গাজায় বিক্ষোভের সময় ইসরাইলি কাঁদানে গ্যাসে তার আট মাসের শিশু কন্যা লাইয়া মারা গেছে।

সোমবারে ইহুদিবাদী ইসরাইলের হামলায় ফিলিস্তিনিদের রক্তের বন্যা বয়ে গেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যেটাকে রক্তগোছল বলে আখ্যায়িত করেছে।

নিহত ৫৮ নিরপরাধ ফিলিস্তিনির মধ্যে আটটি শিশুও ছিল। যাদের সবার বয়স ১৬ বছরের নিচে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়স ছিল লাইলার। শিশুটি সবে আট মাসে পা দিয়েছিল।-খবর মেইল অনলাইনের।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তর উদ্বোধনের সময় বিক্ষোভে ইসরাইলি কাঁদানে গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটি মারা গেছে।

নিহত শিশুকন্যা লাইলা-এএফপি

২০১৪ সালে গাজা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটা ছিল ফিলিস্তিনিদের জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন। এতে প্রায় দুই হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

গাজা শহরে নিহত শিশুর দাফনে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। তার ছোট্ট শরীরটি ছিল ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো।

লাইলার মা বলেন, ইসরাইলি বাহিনী আমাকে মেয়েকে০ হত্যা করেছে।

গত ৩০ মার্চ গাজায় ভূমি দিবসের বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

১২৪৮-৪৯ সালে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সাড়ে সাত লাখেরও বেশি আরব উদ্বাস্তু হয়ে পড়েন। নিজেদের ভিটেমাটি থেকে হয় তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল বা তারা প্রাণ রক্ষায় পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

পার্শ্ববর্তী আরব দেশসহ পশ্চিমতীর ও গাজা উপত্যকায় তারা শরণার্থীর জীবন যাপন করছেন। এসব ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার দাবি করছেন।

পূর্ব পুরুষদের বসতবাড়ি থেকে তাদের তাড়িয়ে দেয়ার পর ইসরাইল যে সীমান্ত বেড়া তৈরি করেছে, তা মানতে অস্বীকার করছেন নিপীড়িত ফিলিস্তিনিরা।

গানদুর বলেন, লাইলাকে তার ১১ বছর বয়সী ভাই আম্মারের সঙ্গে রেখে তিনি দাঁতের ডাক্টারের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু আম্মার তাকে নিয়ে সীমান্তের কাছে বিক্ষোভে চলে যায়। আম্মার ভেবেছিল, তাদের মাও দাদী হাইমের সঙ্গে ওই বিক্ষোভে অংশ নিতে গেছেন।

সন্তান হারিয়ে কাঁদছেন ফিলিস্তিনি মা-এএফপি

সে তার দাদীকে সীমান্তের কাছে দেখতে পেয়ে লাইলাকে তার কোলে দেয়। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে বৃষ্টির মতো কাঁদান গ্যাস ছুড়তে শুরু করেন ইহুদিবাদী সেনারা।

হাইয়াম বলেন, আমি নিজেই শ্বাস নিতে পারছিলাম না। আমরা কাঁদানে গ্যাস থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম। লাইলা তখন খুবই কাঁদছিল। কিন্তু পরবর্তী সময় সে নীরব হয়ে যায়। আমি ভেবেছিলাম, সে ঘুমিয়ে পড়েছে।

হাইয়াম বলেন, এর পর আমি দেখলাম তার ত্বক নীল হয়ে গেছে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। চিকিৎসক তখন বলল, এক ঘণ্টা আগেই সে মারা গেছে।

তিনি বলেন, ডাক্টার তাকে বলেছে, লাইলা শহীদ হয়ে গেছে।

জাতিসংঘে মার্কিন দূত নিক্কি হ্যালি-এএফপি

ফিলিস্তিনিদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যার বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠলেও জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালি বলেছেন, এমন কোনো দেশ নেই, যারা ইসরাইলের চেয়ে বেশি সংযম অবলম্বন করতে পারবে।