সোমবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৭ সকাল ০৭:০২:২৩

Print Friendly and PDF

ছেলের ঘাতককে ক্ষমা করে বাবা বললেন- ‘ইসলাম এ শিক্ষা দিয়েছে’


ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রকাশিত : রবিবার ১২ই নভেম্বর ২০১৭ বিকাল ০৫:০৩:৫৩, আপডেট : সোমবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৭ সকাল ০৭:০২:২৩,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪৯ বার

সময়নিউজ ডট নেট:
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন জিতমাউদকে (২২) ছুরি মেরে খুন করেছিল কৃষ্ণাঙ্গ যুবক আলেকজান্ডার রেলফোর্ড (২৪)।

পিৎজার দোকানে ডাকাতি করতে গিয়ে বাধা পেয়ে ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল খুন করা হয় তাকে। কিন্তু ঘাতককে আটক করে বিচারকের কাঠগড়ায় আনার পর এক অনন্য নজির স্থাপিত হল। খবর ডেইলি মেইলের।

আদালতের কাঠগড়ায় ছেলের হত্যাকারীকে জড়িয়ে ধরে সালাহউদ্দিনের বাবা আবদুল মুনিম সোমবাত জিতমউদ (৬৬) বলেন, তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। বয়স কম তাই ভুল করে বড় অপরাধ করে ফেলেছ। সামনে তোমার গোটা জীবন পড়ে আছে। ইসলাম আমাদের ক্ষমার শিক্ষা দিয়েছে। তুমিও ইসলামকে জানো।

কেনটাকির ফেয়েতে কাউন্টি সার্কিট আদালতের ওই কক্ষে গত মঙ্গলবার উপস্থিত সবার বিস্ময়ের ঘোর যেন কাটছিলই না।

বিচারক, আইনজীবী থেকে শুরু করে উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে দেখলেন- রেলফোর্ডকে ক্ষমা করে সাক্ষীর স্ট্যান্ড থেকে আসামির স্ট্যান্ডে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেই থেমে থাকলেন না জিতমউদ, আবেগে বুকে জড়িয়ে ধরে রেলফোর্ডের কানে কানে সালাউদ্দিনের বাবা বললেন, ‘কোনো চিন্তা করো না। ইসলামকে স্মরণ করবে সব সময়।’

বিচারকসহ সবাই জানেন, মৃত্যুদণ্ডই দেয়া হবে; নয়তো যাবজ্জীবন। থমথম করছে গোটা আদালত কক্ষ।
সেই সময় সাক্ষীর স্ট্যান্ড থেকে বিচারকের দিকে তাকিয়ে করজোড়ে আবদুল মুনিম সোমবাত জিতমউদ বলে উঠলেন- ‘অল্প বয়সের ছেলে। ওকে ক্ষমা করে দিলাম। ইসলাম ধর্ম ক্ষমার কথাই বলে।’

জিতমউদ জড়িয়ে ধরলেন আসামির স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো আলেকজান্ডার রেলফোর্ডকে। চোখের পাতা ভিজে উঠল কেনটাকির ফেয়েতে কাউন্টি সার্কিট জজ কিমবার্লি বানেলেরও। কিছুক্ষণের জন্য আদালত মুলতবি ঘোষণা করে নিজের কক্ষে চলে গেলেন বিচারক বানেল।

গোটা আদালত কক্ষে যেন তখন পিনপতন নীরবতা! আড়াই বছর আগে জিতমউদের ছেলে সালাউদ্দিনকে তো ছুরি মেরে খুন করার অভিযোগ রয়েছেই অভিযুক্ত রেলফোর্ডের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া রয়েছে দোকান ডাকাতিসহ আরও অনেক অপরাধের রেকর্ড। এত কিছুর পরও বাবা হয়ে কীভাবেই বা তাকে বেমালুম ক্ষমা করে দিলেন জিতমউদ! আইনজীবী থেকে শুরু করে আদালত কক্ষে হাজির সবাই মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকলেন।

অন্যদিকে সালাউদ্দিন ছিলেন বিনয়ী, মেধাবী এবং লেখাপড়ায় মনোযোগী একজন ভালো ছেলে।

জিতমউদের বক্তব্য শুনে কিছুক্ষণ পর আদালতে ফিরে এসে বিচারক বানেল ৭ বছরের কারাদণ্ড দিলেন রেলফোর্ডের।
তার পর আসামির স্ট্যান্ডে গিয়ে রেলফোর্ডকে আরও একবার আবেগে জড়িয়ে ধরলেন জিতমউদ। তার পাশে গিয়ে বললেন, ‘ভাবছ কেন? সময়টা দেখতে দেখতে কেটে যাবে। এর পর তোমার জীবনটা আবার নতুন করে শুরু হবে। একেবারে অন্যভাবে এবার গড়ে তোল জীবনটাকে। শুধু ভালো ভালো কাজ করবে এবার। আর সবাইকে ভালো কাজ করতে উৎসাহ জোগাবে। সঠিক পথে চলবে সব সময়। ইসলামকে স্মরণ করে চলার মাধ্যমে সেটি তুমি জেল থেকেই শুরু করে দাও না। এই করতে করতে ৭ বছর কেটে তুমি ৩১ বছরে পৌঁছাবে। যখন তুমি জেল থেকে বেরিয়ে আসবে, তখন জীবনটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য নিজেকে তৈরি রাখতে পারবে।’

রায় দেয়ার আগে বিচারক রেলফোর্ডের মা গেলকুট বার্ডের সাক্ষ্যও শুনেছেন। রেলফোর্ডের মা বলেন, জিতমউদ যে তার ছেলেকে ক্ষমা করে দেবেন, তিনি তা ভাবতেও পারেননি। তিনি অভিভূত। ছেলে রেলফোর্ড যে ছোটবেলা থেকেই মাদকাসক্ত, আদালতে সে কথাও কবুল করেন তার মা কুট বার্ড।

জিতমউদ জানিয়েছেন, আদালত কক্ষে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি রেলফোর্ডের মাও। জিতমউদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য তার ই-মেইল অ্যাড্রেস নিয়েছেন রেলফোর্ডের মা।

আর ইসলাম সম্পর্কে তিনি আরও জানতে চেয়েছেন জিতমউদের কাছে। কথা দিয়েছেন, তিনি নিয়মিত মেইল পাঠাবেন জিতমউদকে, ইসলামের আদর্শ জানতে ও বুঝতে।