মঙ্গলবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৮ রাত ০৯:০৬:২৮

Print Friendly and PDF

অতীত ঠেলে একত্রে হাঁটার প্রত্যয়ট্রাম্প-পুতিন প্রথম শীর্ষ বৈঠক


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশিত : মঙ্গলবার ১৭ই জুলাই ২০১৮ সকাল ০৭:০৩:২১, আপডেট : মঙ্গলবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৮ রাত ০৯:০৬:২৭,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩০২ বার

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে গতকাল বৈঠকের শুরুতে করমর্দন করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

 

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে গতকাল বৈঠকের শুরুতে করমর্দন করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ক্ষমতায় আসার পর ১৮ মাসের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো শীর্ষ বৈঠক করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে। গতকাল সোমবার ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে পাশাপাশি বসে ‘একান্তে’ কথা বলেন তাঁরা। আর প্রথম সাক্ষাতেই অতীতকে পেছনে ফেলে নতুন করে একসঙ্গে হাঁটার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই নেতা।

ট্রাম্প-পুতিনের ঐতিহাসিক বৈঠকটি হয় ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে। বৈঠকস্থলে ট্রাম্প পৌঁছান গতকাল সকালেই। পুতিন পৌঁছান দুপুরের দিকে; নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টাখানেক পর। প্রেসিডেন্ট প্যালেসে প্রথমেই দুই নেতা অংশ নেন ফটো সেশনে। সেখানে তিন সেকেন্ডের জন্য করমর্দন করেন তাঁরা। এরপর পুতিনের উদ্দেশে ট্রাম্পের প্রথম বাক্যটি ছিল, ‘বাণিজ্য থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র, পরমাণু অস্ত্র, চীন—সব কিছু নিয়েই কথা হবে। গত কয়েক বছরে আমাদের সম্পর্ক খুব একটা ভালো যায়নি। আমি সত্যিই মনে করি যে পুরো বিশ্ব আমাদের একসঙ্গে দেখতে চায়। আমরা পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ। রাশিয়ার সঙ্গে একই পথে হাঁটা হবে দারুণ এক ব্যাপার।’ সফল বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য পুতিনকে অভিনন্দনও জানান ট্রাম্প।

ফটো সেশনের পর বৈঠক শুরুর আগ মুহূর্তে রুশ ভাষায় একটি বিবৃতি দেন পুতিন। তাতে তিনি ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট, আপনার সঙ্গে দেখা করতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। সর্বশেষ দেখা হওয়ার পর এত দিন আপনার সঙ্গে শুধু টেলিফোনেই কথা হয়েছে। বিশ্বের নানা সমস্যা এবং আমাদের নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলার উপযুক্ত সময় চলে এসেছে।’

এরপর শুরু হয় দুই নেতার ‘একান্ত’ বৈঠক, যেখানে তাঁদের সঙ্গে নিজেদের দুই দোভাষী ছাড়া আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না। একান্তে কথা বলার এ সিদ্ধান্ত অবশ্য ট্রাম্পেরই। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর পেছনে সম্ভাব্য তিনটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, ট্রাম্প নিজের মতো করে পুতিনকে বুঝতে এবং ‘লিডার টু লিডার’ সম্পর্ক গড়তে চান। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের ক্ষেত্রেও তিনি একই কাজ করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, এর আগে বিদেশি নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হয়েছে। এ কারণে তিনি বৈঠকে কোনো সহযোগী রাখার বিপক্ষে। তৃতীয়ত, ট্রাম্প মনে করেন, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় সহযোগী রাখলে তাঁদের যে কেউ রাশিয়া নিয়ে ‘উল্টাপাল্টা’ মন্তব্য করে বসতে পারেন। তবে গতকাল হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, অল্প সময়ের মধ্যে দুই নেতার মধ্যে আরেকটি বৈঠক হবে, যেখানে দুই দেশের অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।

গতকালের বৈঠকটি শুরু হয় স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া ২টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া ৫টা)। বৈঠকের জন্য নির্ধারিত সময় ছিল দেড় ঘণ্টা। কিন্তু শেষ হয় প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা পর। বৈঠকের পর মধ্যাহ্নভোজে যান দুই নেতা। এরপর অংশ নেন যৌথ সংবাদ সম্মেলনে, যেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কর্মীরা।

বৈঠকের জন্য হেলসিংকি বেছে নেওয়ার কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কাছে ফিনল্যান্ড ঐতিহাসিকভাবেই নিরপেক্ষ একটি রাষ্ট্র। স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট প্যালেসে যখন ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক চলছিল, তখন বাইরে ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রার (ফিনল্যান্ডে গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ) মধ্যে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করছিল পরিবেশবাদীরা। তাদের হাতে যেসব প্ল্যাকার্ড ছিল, সেগুলোর একটিতে ট্রাম্প ও পুতিনের উদ্দেশে লেখা ছিল, ‘পৃথিবী নয়, পারলে আমাদের হৃদয় উষ্ণ করুন।’

গতকাল হেলসিংকিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের মধ্যেও বৈঠক হয়েছে। এটি ছিল ল্যাভরভের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পম্পেওর প্রথম বৈঠক।