মঙ্গলবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৮ রাত ০৯:০০:১৭

Print Friendly and PDF

টাইফুন ম্যানখুট: ফিলিপাইনে নিহত ২৫


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশিত : রবিবার ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ সকাল ০৬:৫৭:২৮, আপডেট : মঙ্গলবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৮ রাত ০৯:০০:১৭,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩১১ বার

ফিলিপাইনে টাইফুন ম্যানখুটের তাণ্ডবের খন্ডচিত্র : বিবিসি

ফিলিপাইনের উত্তর উপকূলে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন মাংখুত। এতে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে খবরে বলা হচ্ছে। লুজনের মূল দ্বীপ লণ্ডভণ্ডের পর ঝড়টি ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে চীনের পথে অগ্রসর হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে ওমপোং নামে পরিচিতি টাইফুনটির মেঘের বহর প্রায় ৯০০ কিলোমিটার বিস্তৃত এবং এটি ঘন্টায় ৩০ কিলোমিটার বেগে এগিয়ে যাচ্ছে। খবর বিবিসির।

কর্মকর্তারা বলেন, তুগুয়েগারো শহরের প্রায় সব ভবনেরই কিছু না কিছু ক্ষতি হয়েছে। উত্তর উপকূলের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ধসে পড়েছে। এ সুপার টাইফুনকে চলতি বছর বিশ্বজুড়ে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া মাংখুতের পথে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের বাস। ঝড়ের গতিবেগ কোথাও কোথাও আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা। ২০ ফুট উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কায় কয়েক লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

রোববার ভোরে ফিলিপাইন ছেড়ে যাওয়ার সময় ম্যাংখটের বাতাসের প্রতি ঘণ্টায় গতিবেগ ছিল ১৪৫ থেকে ১৮০ কিলোমিটার। তবে চীনে আঘাত হানার সময় এর গতিবেগ কমে ৩০ কিলোমিটারে নেমে আসতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। 

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এই টাইফুনটিকে চলতি বছর এ পর্যন্ত আঘাত হানা ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে ঘোষণা করেছে। 

রোববার বিকালে মাংখুট হংকংয়ের কাছ দিয়ে বয়ে যাবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার টাইফুনটি দুর্বল হয়ে একটি ক্রান্তীয় নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে পূর্বাভাসে ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ফ্রান্সিস তোলেন্তিনো জানান, উত্তরাঞ্চলের মধ্যবর্তী জেলা কর্ডিলেরার পাহাড়ি এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেখানে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নুয়েভা একিজায় ভূমিধসে চারজন এবং মারিকিনা এলাকায় একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মী রয়েছেন বলেও জানান ফ্রান্সিস তোলেন্তিনো।

দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রধান রিকার্দো জালাদ জানিয়েছেন, আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে এ পর্যন্ত ৪১টি ভূমিধসের খবর এসেছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

প্রতিরক্ষা সচিব দেলফিন লোরেনজানা বলেন, শনিবার ভোরে কাগায়ান রাজ্যের ব্যাগাও শহরে ভূমিধসের ফলে তিনটি বিদ্যুৎ স্থাপনা (টাওয়ার) মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। কাগায়ানের বিধ্বস্ত তুগুয়েগারাও বিমানবন্দরটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং সেখানে এরই মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে।

ম্যাংখট দুর্যোগপ্রবণ দেশটিতে আঘাত হানা এ বছরের ১৫তম ঘূর্ণিঝড়। দেশটিতে সাধারণত বছরে ছোট-বড় মিলিয়ে ২০টি ঘূর্ণিঝড় হয়ে থাকে। এবারের টাইফুন ২০১৩ সালে আঘাত হানা ফিলিপিন্সের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সুপার টাইফুন হাইয়ানের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে। হাইয়ানের আঘাতে সাত হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছিল, এ ছাড়া বিপর্যস্ত হয়েছিল লাখ লাখ মানুষের জীবন।