শনিবার ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৮ দুপুর ১২:৩৮:৪২

Print Friendly and PDF

শামীম ওসমান ও আইভীকে ঢাকায় তলব


নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধি:

প্রকাশিত : বুধবার ১৭ই জানুয়ারী ২০১৮ দুপুর ০১:৩০:৪৫, আপডেট : শনিবার ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৮ দুপুর ১২:৩৮:৪২,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৭২ বার

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ শহরে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সাংসদ শামীম ওসমান ও সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ​ আইভী সমর্থকদের মধ্যে ফুটপথে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নারায়ণগঞ্জে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই অবস্থায় উভয় পক্ষকে নীরব থাকার নির্দেশ দিয়ে শামীম ওসমান ও আইভীকে আজ বুধবার সন্ধ্যার পরে ঢাকায় তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে উত্তর মেরু-দক্ষিণ মেরু হিসেবে পরিচিত চুনকা পরিবার ও ওসমান পরিবারের দ্বন্দ্ব প্রায় এক বছর পর আবারো প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। যার পরিণতিতে দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক অনুষ্ঠানে মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী প্রকাশ্যে সাংসদ শামীম ওসমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার পর এই বিরোধ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। নির্বাচনের বছরে আওয়ামী লীগের দুইটি অংশের মারমুখী কার্যকলাপ সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ণের পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে নারায়ণগঞ্জে দুর্বল করবে এমনটাই ভাবছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। এদিকে শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াত আইভীকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উচ্চ পর্যায় থেকে তলব করা হয়েছে বলে বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

যদিও ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুইপক্ষের বিরোধ মিটিয়ে দিলেও একবছর শামীম ওসমান নীরব থাকার পর গত সোমবার আবার সরব হন। হকার ইস্যুতে শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীর এই দৃশ্যমান বিরোধ নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নকে ব্যাহত করতে পারে বলে নগরবাসীর ধারণা। গতকাল মঙ্গলবার হকার ইস্যুতে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে সোয়া ঘণ্টাব্যাপী হকার ও শামীম ওসমানের সমর্থকদের সাথে মেয়র আইভীর সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বোমাবাজী এমনকি গুলি বিনিময়ও হয়।

২০১৪ সালের পর আতঙ্কের নগরী নারায়ণগঞ্জ অনেকটা শান্ত ছিল। ক্ষমতাসীন দলের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ থাকলেও তা এতোটা দৃশ্যমান ছিল না। মঙ্গলবারের রণক্ষেত্রের পর এখনও নারায়ণগঞ্জ শহর স্বাভাবিক হয়নি। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শহরময় অতিরিক্ত র‌্যাব ও পুলিশ টহল দিয়ে চলেছে। তবে ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ ও মেয়র নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় প্রশাসন অনেকটা অসহায় অবস্থায় রয়েছে।

হকার ইস্যুতে গত ২৫ দিন যাবত শহরে দুইপক্ষের মধ্যে তেমন দৃশ্যমান বিরোধিতা দেখা না গেলেও গত ৯ জানুয়ারি জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে মেয়র আইভী সাংসদ শামীম ওসমানের ছেলের বিয়েতে ২৫ কোটি টাকা খরচসহ আপত্তিকর কিছু বক্তব্য রাখার পর শহর উত্তপ্ত হতে থাকে। তাছাড়া- হকার ইস্যু নিরসনে সাংসদ সেলিম ওসমান অস্থায়ীভাবে হকারদের বসার জন্য তিনটি স্থানের নাম উল্লেখ করে মানবিক কারণে তাদের সান্ধ্যকালীন বেচাকেনার সুযোগ দেয়ার জন্য মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর কাছে প্রস্তাবনা পাঠালেও মেয়র আইভী পাল্টা বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে সাংসদ সেলিম ওসমানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তিনি তার স্থানে অনড় থাকেন। গত মঙ্গলবার হকাররা ফুটপাতে বসার চেষ্টা করলে মেয়র আইভী নগর ভবন থেকে ৫/৬শ' সমর্থক নিয়ে চাষাঢ়া যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে প্রেসক্লাব অতিক্রম করে চাষাঢ়া যাওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ ইটপাটকেল ছাড়াও অস্ত্র ও বোমা ব্যবহার করে। ফলে নারায়ণগঞ্জ আবার আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে।