মঙ্গলবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৮ রাত ০৯:৩৫:০০

Print Friendly and PDF

আজ খুলছে ‘গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু’


ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রকাশিত : রবিবার ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ভোর ০৪:৩৭:১২, আপডেট : মঙ্গলবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৮ রাত ০৯:৩৫:০০,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ২০৯ বার

উদ্বোধন ঘিরে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু।

তিস্তার এক পারে রংপুর, আরেক পারে লালমনিরহাট। ফলে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ চারটি উপজেলার লোকজনকে রংপুরসহ সারা দেশে যাতায়াত করতে হতো প্রায় ৫০ কিলোমিটার ঘুরে। এ অবস্থায় তিস্তার ওপর একটি সেতুর স্বপ্ন সেখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের। সেই স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। আজ রবিবার উদ্বোধন হবে ‘গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু’। গণভবন থেকে সকাল সাড়ে ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তবে উদ্বোধনের আগমুহূর্তে গত শুক্রবার কালীগঞ্জ-গঙ্গাচড়া উপজেলা সড়কের (সংযোগ সড়ক) একটি সেতুর একাংশ ধসে যায়। এ অবস্থায় ‘গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু’ উদ্বোধনের আগেই যাতে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়, সে জন্য গত শুক্রবার দুপুর থেকে বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। তবে সেখানকার অনেক বস্তা লোপাট করা হয়েছে বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। একটি সূত্র জানায়, আরেকটি ব্রিজের ভাঙন রোধের কথা বলে ২০০টি ব্যাগ সরানো হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, মূল সেতু নির্মাণে ১২৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ফুটপাতসহ ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের সেতুতে ১৬টি পিলার, দুটি অ্যাপার্টমেন্ট ও ১৭টি স্প্যানে ৮৫টি গার্ডার রয়েছে। এর বাইরে সেতু রক্ষায় উভয় পাশে এক হাজার ৩০০ মিটার নদীশাসন বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের কাকিনা থেকে সেতু পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে ৫ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সড়ক।

স্থানীয়রা মনে করছে, সেতু নির্মাণের ফলে একসময়ের ‘মঙ্গাপ্রবণ’ এ এলাকার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। কালীগঞ্জের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম জানান, তিনি প্রতিদিন মোটরসাইকেলে করে গঙ্গাচড়ায় অফিস করেন। তিনি বলেন, ‘এটা অভূতপূর্ব একটা ঘটনা। একটা স্বপ্নের বাস্তবায়ন। বাড়ি থেকে মাত্র আধাঘণ্টাতেই এখন অফিসে যাওয়া সম্ভব।’

কাকিনার রুদ্রেশ্বর এলাকার বাসিন্দা আবু কালাম বলেন, ‘আগে কয়েক কিলোমিটার বালুচরে হেঁটে নৌকায় নদী পেরিয়ে রংপুর যেতে হতো। কিন্তু আমরা শেখ হাসিনার জন্য সহজেই সেখানে যেতে পারব।’

কালীগঞ্জের বাসিন্দা ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, ‘স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে শুধুমাত্র আমার প্রাণপ্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যই। এ অঞ্চলের আপামর মানুষের পক্ষ থেকে তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার জনগণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রার এটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।’

নামকরণ : সেতুটি নির্মাণের শুরু থেকেই দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। তবে রংপুরের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ও স্বপ্নের বাস্তবায়নে উদ্যোগী হওয়ায় গত ১৯ জুন রংপুর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে এক সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা সেতুটির নামকরণ ‘গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু’ করার প্রস্তাব জানান। তাতে উপস্থিত সবাই সমর্থন করে। ফলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়। শেষে ওই প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে সেতুটির নাম দেওয়া হয় ‘গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু’।