বুধবার ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ রাত ০৩:৪১:৪৫

Print

গর্ভবতী মায়ের দাঁত ও মুখের যত্ন


ডা. সিকদার নাজমুল হক

প্রকাশিত : শুক্রবার ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৯ সকাল ১০:০১:০৪, আপডেট : বুধবার ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ রাত ০৩:৪১:৪৫,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ২১৯ বার

গর্ভাবস্থায় দাঁত ও মুখের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। কারণ এ সময় শরীরে হরমোন নিঃসরণে পরিবর্তন ঘটায় মুখগহ্বরের সংক্রমণ ও মাড়িরোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। গর্ভকালীন চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ মাসে এবং শেষ তিন মাসে গর্ভবতীর মাড়িরোগের আশঙ্কা বেশি। তখন দাঁত ব্রাশের সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, ফুলে যাওয়া, লাল হয়ে যাওয়া, এমনকি চাপ দিলে ব্যথা হওয়া-এসব উপসর্গ দেখা দেয়। আমেরিকায় মাড়িরোগ একাডেমির মতে, গর্ভকালীন মাড়িরোগের কারণে অকাল প্রসব ও কম ওজনের সন্তান জন্মদানের আশঙ্কা বেশি। তাই গর্ভধারণের আগে ও গর্ভকালে মুখগহ্বরের নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।

গর্ভকালে দাঁতের জরুরি কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তা গর্ভকালীন চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ মাসে করা ভালো। গর্ভকালীন প্রথম তিন মাসে ভ্রূণের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বৃদ্ধি ঘটে। এ সময় দাঁতের চিকিৎসা ভ্রূণের জন্য তির কারণ হতে পারে। গর্ভকালীন শেষ তিন মাসে দাঁতের চিকিৎসা করানো ঝুঁকিপূর্ণ। তখন দীর্ঘ সময় দরকার হয়-এমন কোনো দাঁতের চিকিৎসা করালে তা রোগীর জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এ সময় দাঁতের যেসব চিকিৎসার জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টির দরকার হয়, তা এড়িয়ে চলা উচিত। কোনো বাড়তি চাপ অকাল প্রসবের কারণও ঘটাতে পারে।

মাড়ি ও দাঁত থেকে সংক্রমণ ঘটলে তা গর্ভজাত ভ্রূণে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এ সময় সংক্রমণ রোধে দরকার হতে পারে অ্যান্টিবায়োটিক। গর্ভকালে টেট্রাসাইকিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক গর্ভজাত সন্তানের জন্য ক্ষতিকর। এতে নবজাতকের দাঁতের স্বাভাবিক রঙ বদলে গিয়ে উজ্জ্বল হলুদ কিংবা গাঢ় বাদামি রঙ ধারণ করতে পারে।

গর্ভকালে দাঁতের অ্যামালগাম ফিলিং করালে এ ফিলিংয়ের পারদের কারণে ভ্রূণের ক্ষতি হতে পারে কিনা, এ বিষয়ে অনেকে চিন্তিত থাকেন। যথাযথ পদ্ধতি অবলম্বন করে এ ফিলিং করা হলে তা ভ্রূণের জন্য ক্ষতিকর নয়। চিকিৎসার জন্য লোকাল অ্যানেসথেটিক বা স্থানীয়ভাবে অবশ করার ইনজেকশন ব্যবহার করা হলে তা ভ্রূণের ওপর ক্ষতিকর কিনা, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব খুব সামান্য।

গর্ভকালে দাঁতের এক্স-রে না করাই ভালো। অবশ্য গর্ভজাত সন্তানের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব খুবই কম। জরুরি অবস্থায় এক্স-রে করার দরকার হলে গর্ভবতীকে বিশেষ ধরনের লিড অ্যাপ্রন পরিয়ে এক্স-রে করানো উচিত। এতে রঞ্জনরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মা ও গর্ভজাত শিশুকে দূরে রাখা যায়। গর্ভকালে শুধু দাঁতের জরুরি চিকিৎসাগুলো করানো উচিত।

সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসাগুলো প্রসবের পরে করানো উচিত। গর্ভকালে বমি বমি ভাব বা দেখা দেয়। বমি হওয়ার পর ভালো করে কুলি করে ফেলা উচিত। কারণ বমির অম্লতা দাঁতের অ্যানামেলে সূক্ষ্ম ক্ষয় সৃষ্টি করতে পারে। দাঁত হতে পারে সংবেদনশীল এবং সহজেই আক্রান্ত হতে পারে ক্ষয়রোগ বা ক্যারিজে। তাই গর্ভকালে নিয়মিত ডেন্টাল সার্জনকে দিয়ে দাঁত ও মুখগহ্বর পরীক্ষা করানো দরকার।

লেখক : ডেন্টাল স্পেশালিস্ট

তায়েফ ডেন্টাল হাসপাতাল, সৌদি আরব