বুধবার ১৩ই নভেম্বর ২০১৯ ভোর ০৫:৪২:৫৭

Print

কৃমি নিয়ে সাধারণের ভুল ধারণা


ডা. অমৃত লাল হালদার,স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখক এবং শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

প্রকাশিত : বুধবার ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৯ সকাল ১১:১৫:০৫, আপডেট : বুধবার ১৩ই নভেম্বর ২০১৯ ভোর ০৫:৪২:৫৭,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২৫ বার

বাংলাদেশে শিশুদের পুষ্টিহীনতার অন্যতম একটি কারণ কৃমি। শিশুদের রুচি নষ্ট হওয়া এবং দুর্বলতার জন্য কৃমি দায়ী হতে পারে। কৃমির সংক্রমণ হলে আপনি সন্তানকে যা-ই খাওয়ান না কেন, তার একটা বড় অংশ কৃমির পেটে চলে যায়। জেনে অবাক হবেন, একটি কৃমি মানুষের অন্ত্র থেকে দিনে শূন্য দশমিক ২ মিলিলিটার রক্ত শুষে নেয়। অনেক কৃমি শরীরে থাকলে প্রতিদিনই বেশ কিছু পরিমাণ রক্ত হারিয়ে যায়। ফলে শিশুরা অপুষ্টি ও রক্তশূন্যতায় ভোগে।

শিশু অরুচি বা খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দেয়, আয়রনের ঘাটতি ও রক্তশূন্যতার জন্য দুর্বল হয়ে যায়, বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, পেট ফাঁপা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। কৃমির কারণে অ্যালার্জি, ত্বকে চুলকানি, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কখনো খাদ্যনালি বা পিত্তনালিতে কৃমি আটকে গিয়ে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। কৃমি সংক্রমণ তাই একটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা বলে ধরে নেওয়া হয়।

কৃমির সমস্যা ওষুধের মাধ্যমে দূর করার উপায় আছে। কিন্তু অনেকে নানা ভুল ধারণায় বশবর্তী হয়ে ভয়ে কৃমির ওষুধ খান না বা খেতে চান না। শিশুদেরও খাওয়ানো থেকে বিরত রাখেন, যা উচিত নয়। ভুলগুলো হলো-

১/ পেটে দু-চারটা কৃমি থাকা ভালো, পেটে কিছু কৃমি না থাকলে খাবার হজম হয় না, অনেকে এসব ধারণা পোষণ করেন। আসলে কৃমি শরীরের শত্রু । এরা দেহের খাদ্য-পুষ্টি- রক্ত শোষণ করে।

২/ অত্যধিক মিষ্টি, চিনি ও বেশি রাতে মাছ খেলে পেটে কৃমি হয়, এমন বিশ্বাস চালু আছে। কিন্তু এ ধারণা মোটেই ঠিক নয়। কৃমি এক ধরনের পরজীবী প্রাণী, যা খাবার, পানির মাধ্যমে বা পায়ের পাতা ভেদ করে দেহে প্রবেশ করে। অপরিচ্ছন্নতা এবং দূষিত খাবার ও পানি কৃমির কারণ। অত্যধিক মিষ্টি বা চিনি খাওয়ার সঙ্গে দেহে কৃমি সংক্রমণের কোনো সম্পর্ক নেই।

৩/ চিরতার পানি অর্থাৎ তেতো খেলে কৃমি মরে যায়, অনেকে এ রকম ভেবে থাকেন। চিরতার অন্য ভেষজ গুণ থাকলেও কৃমি মরার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি।

৪/ কৃমির ওষুধ কেবল শীতের সময় বা বৃষ্টির দিনে খাওয়াতে হয়; গরমের দিনে খাওয়াতে নেই- এ ধারণাও অনেকের মধ্যে দেখা যায়। এসবের কোনো ভিত্তি নেই।তবে খাওয়ার পর বা ভরা পেটে খাওয়া ভালো। বাজারের কৃমিনাশক ওষুধ সবই মোটামুটি নিরাপদ এবং শীত-গরম যে কোনো সময়ই খাওয়ানো যায়।

৫/ কেবল গ্রামে বা রাস্তায় থাকা শিশুদের কৃমি হয়- এ ধারণাও ভুল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যে কারো কৃমি সংক্রমণ হতে পারে। তাই অপুষ্টি এড়াতে নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়া ভালো।

লেখক : আবাসিক চিকিৎসক

শিশু ও নবজাতক বিভাগ

বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২ (মহিলা ও শিশু হাসপাতাল), সেগুনবাগিচা, ঢাকা

০১৬৩৬৬৯২২৯৮; ৯৫১১০১০-২১