সোমবার ৯ই ডিসেম্বর ২০১৯ বিকাল ০৫:৩০:২৮

Print

চাই সম্মিলিত প্রতিরোধপরিস্থিতি ভয়াবহ প্রয়োজন সচেতনতা


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার ১লা আগস্ট ২০১৯ সকাল ১০:৫৮:৪০, আপডেট : সোমবার ৯ই ডিসেম্বর ২০১৯ বিকাল ০৫:৩০:২৮,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৬২ বার

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, নগর পরিকল্পনাবিদ

এক সময় ম্যালেরিয়া আমাদের জন্য ভয়াবহ সমস্যা ছিল। সমন্বিত চেষ্টায় এই মরণব্যাধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু জায়গা ছাড়া ম্যালেরিয়া খুব একটা দেখা যায় না। গত ১৫-২০ বছর ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। ডেঙ্গু শহরকেন্দ্রিক রোগ। শহরের উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে যেসব ভাঙা জিনিসপত্র পড়ে থাকে, তাতে জমা পরিস্কার পানিতে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা বংশ বিস্তার করে। এমনকি বাসাবাড়ির রেফ্রিজারেটর, এসির জমা পানিতেও এই মশার জীবনচক্র বৃদ্ধি পায়। ঢাকায় মশা নিধন কার্যক্রম চালায় সিটি করপোরেশন। পাকিস্তান আমলে এই কাজের সূচনা করেছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী হাবিবুল্লাহ বাহার।

গত কয়েক বছর থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। দুই বছর আগে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চিকুনগুনিয়া। ১০ বছর আগে আমিও ডেঙ্গুতে এবং দু'বছর আগে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। সবার দোয়ায় আরোগ্য লাভ হলেও ভোগান্তি ও শারীরিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে।

বর্ষা এলেই ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হয়। তবে ডেঙ্গু এবার শুধু ঢাকা শহরেই সীমাবদ্ধ নেই, সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেই আছে। রবীন্দ্রনাথকে তো আমরা সব কাজে স্মরণ করি। তার জীবনী থেকে জানা যায়, আঠারো শতকে তার পরিবারের লোকজন এমন রোগ থেকে মুক্তি পেতে কলকাতা থেকে অন্যত্র গিয়েছিল। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ জনগণের সবার দায়িত্ব রয়েছে। ঘরে যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেসব স্থান ও বসতবাড়ির আশপাশ আমাদের নিজেদের পরিস্কার করতে হবে। বাইরের যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, মশা বংশবিস্তার করতে পারে, সেসব দেখার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের।

কলকাতা ও সিঙ্গাপুরে এক সময় ডেঙ্গু ব্যাপক আকারে দেখা দিত। কিন্তু সেখানকার কর্তৃপক্ষের ব্যাপক কর্মসূচির কারণে এখন ডেঙ্গু সমস্যা নিয়ন্ত্রণে। কলকাতায় প্রতি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পৃথক জনবল রয়েছে। তাদের কাউন্সিলররা নিজেদের সামজিক দায়িত্ব মনে করে জনগণের সঙ্গে ডেঙ্গু রোধে কাজ করে। সিঙ্গাপুরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশার বংশবিস্তারের পরিবেশ ধ্বংস করা হয়। অসচেতন বাড়ির মালিককে জরিমানা করা হয়। বাংলাদেশেও এমন কর্মসূচি নিতে হবে। প্রয়োজনে কলকাতা পৌর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক। এটা নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। তবে প্রচারণা যেন ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।