শনিবার ৭ই ডিসেম্বর ২০১৯ সকাল ০৮:১৯:৪৩

Print

সচেতন হই, মানব পাচার রোধ করি


রিয়াজুল হক

প্রকাশিত : সোমবার ২৬শে আগস্ট ২০১৯ সন্ধ্যা ০৭:৫৪:০৬, আপডেট : শনিবার ৭ই ডিসেম্বর ২০১৯ সকাল ০৮:১৯:৪৩,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৭৯ বার

ছবি : সংগৃহীত

কোন দেশের আইন মানব পাচারের পক্ষে নয়। অনেক আগেই উঠে গেছে প্রচলিত দাস প্রথা। কিন্তু উদ্ভাবন হয়েছে দাস প্রথার নব্য সংস্করণ। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে অবৈধ মানব পাচারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে। মানব পাচার প্রতিরোধে প্রতি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কাউন্টার ট্রাফিকিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মানব পাচার প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি আমাদের সচেতনতাও প্রয়োজন। কারণ দিনশেষে আমরাই ভুক্তভোগী। মানব পাচার প্রতিরোধকল্পে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো আমরা নিজেরাই বিবেচনা করা যেতে পারে-

১। যারাই বিদেশে যাবেন, বৈধতার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে নিন। কোনভাবেই অবৈধভাবে যাওয়া যাবে না। অনেকেই অল্প খরচে বিদেশে যাবার জন্য অবৈধ পথটাকে বেছে নেয়। এটা যে কত বড় ভুল, সেটা যাবার পরেই বুঝতে পারে। বৈধভাবে না যাবার কারণে ভালো কোন কাজও পায় না। মালিক যেমনভাবে ইচ্ছা খাটিয়ে নিচ্ছেন। সড়কের পাশে কিংবা জঙ্গলেই কাটছে তাদের রাত। ঘর ভাড়াও নিতে পারেন না।

২। এলাকায় অপরিচিত কিংবা নতুন কোন কাউকে দেখলে এবং আচার, আচরণে সামান্যতম সন্দেহ হলে অবশ্যই ভালোভাবে খোঁজ খবর নিতে হবে। প্রয়োজনবোধে পুলিশ, জনপ্রতিনিধিকে জানাতে হবে।

৩। মানব পাচারের বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সম্যক ধারণা দেয়া প্রয়োজন। ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একবার করে সকল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠান করা যেতে পারে।

৪। দেশে কিংবা বিদেশে কোথাও চাকরির জন্য লোভনীয় প্রস্তাব পেলে, সেই চাকরি এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সকল তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনাকে যে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, আদৌ আপনি সেটা পাবার উপযুক্ত কিনা?

৫। দূরে কোথাও আত্মীয়তা করতে হলে একপক্ষ আরেক পক্ষের খোঁজ খবর নিয়ে নেওয়া উচিত। এছাড়া এক মাস কিংবা দুই মাস মেয়াদি টুরিস্ট ভিসায় কেউ বিদেশে গিয়ে সেখানে যেন না থেকে যায়, সে বিষয়ে নিজেদের সচেতনতা প্রয়োজন। পুলিশের ভয় হয় প্রতিদিনের সঙ্গী। ধরা পরলে দিনের পর জেল খাটতে হয়।

৬। পাচারের শিকার ব্যক্তিরা যেন সমাজে পূর্বের সম্মান ও মান-মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে সেজন্য আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। অনেকেই এক ঘরা জীবন যাপন করে। তাদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন আইনের সঠিক প্রয়োগ। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ অনুসারে, পাচার এবং তদসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের নিম্নোক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মানব পাচার সামান্য কোন সমস্যা নয়। এটির সাথে আরও অনেক ধরনের সমস্যা জড়িয়ে আছে।

ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ মানব পাচারের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গ্রামে বসবাসকারী দরিদ্র লোকেরা আকর্ষণীয় চাকরির প্রস্তাবে সহজেই প্রতারিত হয়। তারা সেই প্রতারণা ধরতে না পেরে সহজেই অবৈধভাবে স্থানান্তরিত হয়। অনেক সময় মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি অপহরণের শিকার হয়। মানব পাচারের কারণে শুধু ব্যক্তির উপরই পড়েনা, এর প্রভাব পড়ে সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি প্রভৃতির উপর। এজন্যই দেশের স্বার্থে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

লেখক: রিয়াজুল হক, উপ-পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক