বুধবার ১৩ই নভেম্বর ২০১৯ ভোর ০৫:৫২:৫৯

Print

কপি, কাট, পেস্ট,,,,,,


বেলায়েত বাবলু:

প্রকাশিত : বুধবার ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ রাত ০৮:২১:১৫, আপডেট : বুধবার ১৩ই নভেম্বর ২০১৯ ভোর ০৫:৫২:৫৯,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৬৫ বার

বেলায়েত বাবলু

কপি, কাট ও পেস্ট শব্দটি এখন বহুল প্রচলিত শব্দ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে মিডিয়া পাড়ায় এ শব্দটি জানেনা এমন কেউ নেই যারা এখন দৈনিক পত্রিকা বের করার স্বপ্ন দেখেন অথবা যারা নিয়মিত বিরতিতে বের করছেন তাদের জানা হয়ে গেছে পত্রিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে এখন আর তেমন একটা দক্ষ জনবলের দরকার হয়না। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র একজন অভিজ্ঞ কম্পিউটার অপারেটর থাকলেই হয়।

আমার জানা মতে বরিশালের অনেক দৈনিক পত্রিকায় বার্তা সম্পাদকের চেয়ে একজন কম্পিউটার অপারেটরের বেতন অনেক অনেক বেশী। কোন কোন ক্ষেত্রে মূল্যায়নও অনেক বেশী। কারন হিসেবে জানা গেছে পত্রিকা বের করতে একজন কম্পিউটার অপারেটর বর্তমান সময়ে অনেক ভূমিকা পালন করে। আগে যেখানে একজন কম্পিউটার অপারেটরের একটি পত্রিকায় কাজ করে বাড়ী ফিরতে রাত দুইটা তিনটা বেজে যেতো এখন সেই অপারেটর একসাথে তিনটা পত্রিকায় কাজ করে রাত ১২ টা একটার মধ্যেই বাড়ী ফিরে।

কাজ এতো সহজ হলো কিভাবে সেনিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। আসলে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে সাংবাদিকদের সাথে কাজ করতে করতে কম্পিউটার অপারেটররা এক একজন অনেক পারদর্শী হয়ে উঠে। বার্তা সম্পাদকের কৌশল রপ্ত করে তারাই ভিতরে ভিতরে বার্তা সম্পাদক হয়ে উঠে। প্রতি রাতে কাজ করতে গিয়ে দেখা যায় বেশীরভাগ বার্তা সম্পাদক অফিসে গিয়েই বেশ কয়েকটি অনলাইন খুলে বসে পড়েন। তারপর সেই সকল অনলাইন থেকে নিউজ টেনে একটা ফাইল করেন। বেশ তাদের কাজ শেষ। তারপর যা করার কম্পিউটার অপারেটররাই করেন। এতো বৃত্তান্ত দেয়ার কারন হচ্ছে বার্তা সম্পাদকদের সাথে কাজ করতে করতে কম্পিউটার অপারেটররা বুঝে গেছেন কিভাবে এবং কোন নিউজ টানতে হয়।

এই অভিজ্ঞতার কারনে যখন বার্তা সম্পাদক কোন কারনে অফিসে অনুপস্থিত থাকেন তখন একজন কম্পিউটার অপারেটরের উপর সকল দায়িত্ব অর্পিত হয়। তার বদৌলতে পরদিন পত্রিকা পাঠকের হাতে পৌঁছে। এবিষয়টি মালিকপক্ষ বুঝে উঠার পর দাম বাড়ে অপারেটরের। এরপর পত্রিকায় কেউ কাজ করুক আর না করুক তাতে মালিকের কিছু যায় আসেনা। কারন তিনি জেনে ও বুঝে গেছেন যে নিউজ টানতে পারে তাকে দিয়ে সব সম্ভব। তাই কাড়ি কাড়ি বেতন দিয়ে সাংবাদিক না রেখে একটু বেতন বাড়িয়ে দিয়ে একজন দক্ষ কম্পিউটার অপারেটর রাখা অনেক উত্তম। কপি, কাট ও পেস্টের বর্তমান সময়ে বেশী জনবলের দরকার নেই তা লেখার শুরুতেই বলেছিলাম। এতে যেমন অনেক উপকারিতা আছে তেমনি কিছু অপকারিতাও আছে।

কারন এটাও দেখা যায় মফস্বলের কোন সাংবাদিক একটি অনলাইন থেকে নিউজ টেনে তা তার কর্মরত পত্রিকায় পাঠায়। এই টানাটানির ফলে দেখা যায় দৈনিক হাওয়া পত্রিকার প্রতিনিধির নিউজের ভিতরে দেখা যায় হাওয়া পত্রিকার পরিবর্তে কোন এক ডটকম অনলাইনকে একথা জানানো হয়েছে তা উল্লেখ রয়েছে। এবং এটি যার সম্পাদন করার কথা তিনি যেকোন কারনে তা না করায় দেখা যায় পরদিন তাই ছাপা হচ্ছে। এছাড়া কপি, কাট ও পেস্টের কারনে প্রতিনিয়ত বরিশালের একাধিক পত্রিকায় একই শিরোনামে হুবাহু একই খবর প্রকাশিত হয়। এতো কিছুর পরেও যারা একটু মানসম্মত পত্রিকা বের করার চেষ্ঠা করে তারা পড়ে বিপাকে। বিষয়বস্তু ও বর্ননায় কোন পরিবর্তন না পাওয়ায় স্থানীয় পত্রিকা পড়ার পাঠক দিনদিন কমে যাচ্ছে। অনেক মালিককে গুনতে হচ্ছে লোকসান। আবার কপি, কাটের কারনে লাভের মুখ দেখা মালিকের সংখ্যা কম নয়। তাই কারো কারো কাছে কপি, কাট, পেস্ট হয়ে উঠে বহুতি বেস্ট........।