বুধবার ১৩ই নভেম্বর ২০১৯ ভোর ০৫:৪৫:৪৭

Print

সড়কের শৃঙ্খলায় বসছে আইটিএস


বিশেষ সংবাদদাতা:

প্রকাশিত : শুক্রবার ১লা নভেম্বর ২০১৯ সকাল ১১:১৯:৪৭, আপডেট : বুধবার ১৩ই নভেম্বর ২০১৯ ভোর ০৫:৪৫:৪৭,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ২১৬ বার

সড়ক-মহাসড়কের যানজটের কারণে গাড়ি কখন পৌঁছবে গন্তব্যে তা বলা মুশকিল। কিন্তু এবার এমন ব্যবস্থাপনা চালু করতে যাচ্ছে সরকার, যার মাধ্যমে গাড়ির অবস্থান, গন্তব্যে পৌঁছার সময় থেকে শুরু করে সবই জানা যাবে। ইনটেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম-আইটিএসের মাধ্যমে এ সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

রাস্তায় আইটিএস স্থাপনের ফলে গাড়ির অবস্থান, গতিপ্রকৃতি সবই চিহ্নিত এবং নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। দেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। প্রাথমিকভাবে এটি একটি মহাসড়কে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু হচ্ছে শিগগির। পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়ক ও জেলা সড়ক এর আওতায় আছে।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান এ বিষয়ে বলেন, নির্বিঘ্ন যাত্রা এবং সড়ক নিরাপত্তায় আইটিএস খুবই কার্যকর উদ্যোগ। বিদেশে এ ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে এটি নতুন চালু হচ্ছে।

দেশের মহাসড়কগুলো দুই লেন থেকে চার লেন, ছয় লেন, আট লেন করা হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনের ফলে যানজট কমবে- এমন দাবি ছিল কর্তৃপক্ষের; কিন্তু যানজট লেগেই আছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইলসহ সব মহাসড়কেই একই অবস্থা। ফলে যাত্রার পর কখন গন্তব্যে পৌঁছা সম্ভব তা কেউই স্পষ্ট করে বলতে পারেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকেন রাস্তায়। এর মধ্যে কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। এসব থেকে পরিত্রাণে উন্নত বিশ্বের মতো দেশের বিভিন্ন স্থানে আইটিএস বসানো হবে। রাজধানী ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকবে এর পর্যবেক্ষণ কক্ষ। রাস্তায় বসানো ক্যামেরা ও ক্যাবলের মাধ্যমে দূর থেকে জানা যাবে সড়কের কোথাও সমস্যা হচ্ছে কিনা।

মহাসড়কে গাড়ির সবচেয়ে বড় সমস্যা বেপরোয়া গাড়ি চালনা। দূর থেকেই গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সাধারণত ৮০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চললেও বৃষ্টিজনিত কারণে গতি কমাতে হয়। তখন গতিবেগ ৫০ বা ৪০-এ নামিয়ে আনতে পারে আইটিএস। তা ছাড়া সার্বক্ষণিক অবস্থান জানতে পারার কারণে যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে কর্তৃপক্ষ। যেমন, রাস্তার কোনো স্থানে দুর্ঘটনা ঘটলে তা-ও হাইওয়ে পুলিশ বা ট্রাফিক পুলিশকে জানানো যাবে তাৎক্ষণিকভাবে। এতে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি অপসারণ বা আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তরের সুযোগ থাকছে। তা ছাড়া কোনো রাস্তায় গাড়ি বেশি অতিক্রম করলে তা-ও দেখা যাবে। তখন বিকল্প পথে অন্য গাড়ি চলাচলের জন্য দিকনির্দেশনা দেবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। যানবাহনের বিস্তারিত ছবির মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে পারে আইটিএস। এ কারণে কোনো গাড়ি খোয়া গেলে অথবা অপরাধচক্রের গাড়ি তাৎক্ষণিক ধরার বড় ক্ষেত্র তৈরি হবে এ পদ্ধতি চালু হলে।

শুধু তা-ই নয়, ফিটনেসবিহীন বা অতিরিক্ত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এ পদ্ধতির সহযোগিতায়। কোনো বাহন আইন লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিক গাড়ি না ধরে খুদেবার্তা বা চিঠির মাধ্যমে মামলা এবং জরিমানার শাস্তি জানিয়ে দিতে পারবেন। এতে চলতি পথে বিশেষ কারণ ছাড়া গাড়ি থামানোর প্রয়োজন নেই। শুধু তা-ই নয়, এ পদ্ধতি চালু হলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের কাজ আরও সহজ হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান কোইকার অর্থসহায়তায় প্রাথমিকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম বা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আইটিএস চালু করতে একটি টিম কাজ করেছে। ২০১৭ সালে সওজের দেওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে এখন কোইকার একটি টিম মহাসড়ক দুটি পরিদর্শন করছে। পরে সিদ্ধান্ত হয় শুরুতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ পদ্ধতি চালু হবে।

সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানেও আলোচনা হয়েছে পাইলটিং হিসেবে চালুর বিষয়টি। এর সফলতার পর পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়ক এবং জেলা সড়ককে এ পদ্ধতির আওতায় আনতে চায় সওজ। ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল মেয়াদি এ প্রকল্পে ৮.৯৩ মিলিয়ন ডলার দেবে কোইকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ১.৭ মিলিয়ন ডলার।