শুক্রবার ২২শে নভেম্বর ২০১৯ সকাল ১০:৫৭:০৮

Print

কলকাতায় বসেই ১০ গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ সন্ত্রাসী শাহাদাতের


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : রবিবার ২৫শে আগস্ট ২০১৯ সকাল ১০:৪৬:৪২, আপডেট : শুক্রবার ২২শে নভেম্বর ২০১৯ সকাল ১০:৫৭:০৮,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৭৯ বার

ভারতে বসেই ঢাকায় ১০টি গ্রুপ চালাচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত। তার বাহিনীর কেউ ব্যবসায়ীদের তথ্য সংগ্রহ করে, অন্য গ্রুপ সেই ব্যবসায়ীর নম্বরে ফোন করে চাঁদা দাবি করে; আবার চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্র সরবরাহ করে পার্টিকে। কেউ কেউ চাঁদা ও অস্ত্র বিক্রির টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয় শাহাদাতের কাছে। সম্প্রতি র‌্যাব ৪-এর অনুসন্ধান ও গত শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া বাহিনীটির সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা মো. আবু হানিফ বাদল ওরফে ডিশ বাদলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

র‌্যাব ৪-এর সহকারী পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বালুঘাট বাজারে অভিযান চালায়। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন এবং দুই রাউন্ড গুলিসহ শাহাদাত বাহিনীর অন্যতম সদস্য মো. আবু হানিফ ওরফে ডিশ বাদলকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে হলেও দীর্ঘদিন ধরে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিল। তার নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা রয়েছে।

তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিশ বাদল মুখ খুলছে না। যদিও এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া কিলার সবুজের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, শাহাদাতের বিভিন্ন গ্রুপের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করত এই বাদল। সাধারণ বেশে থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও ঠিকাদারদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতকে সরবরাহ করত সে। পরে শাহাদাত তাদের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে চাঁদা চাইত। সেই অর্থ ডিশ বাদল তার বিশ্বস্ত কিছু লোক দিয়ে সংগ্রহ করে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাঠাত। ডিশ বাদলের মামা হত্যা মামলার পলাতক আসামি রেজুও দীর্ঘদিন ধরে শাহাদাতের সঙ্গে কলকাতায় অবস্থান করছে।

র‌্যাব জানায়, রাজধানীর অপরাধজগতের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত মিরপুর, পল্লবী, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একজন মূর্তিমান আতঙ্ক। ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, ঠিকাদার এমনকি চাকরিজীবীদের কাছ থেকে সে নিয়মিত নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করত। অপহরণ ও খুন ছিল তার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

শাহাদাত বাহিনীর অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। পরে বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদ-সহ নানা মেয়াদে পলাতক শাহাদাতকে সাজা দেন আদালত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুরস্কার ঘোষণাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযানও চালায়। কিন্তু অত্যন্ত বিচক্ষণ ও তীক্ষè বুদ্ধিসম্পন্ন এই সন্ত্রাসী সবাইকে ফাঁকি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়।

বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করেও নিজের অপরাধ সাম্রাজ্যকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে শাহাদাত। তার নির্দেশে মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো অন্তত ১০টি গ্রুপ কাজ করছে। এদের একটি গ্রুপ বিভিন্ন ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও ঠিকাদারদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে শাহাদাতকে পাঠায়। পরে সে কলকাতা থেকেই ওইসব ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের ফোন করে চাঁদা চায়। অন্য আরেকটি গ্রুপ চাঁদার টাকা সংগ্রহ করে হুন্ডির মাধ্যমে তার কাছে পাঠিয়ে দেয়। যারা দাবি অনুযায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন, তাদের হত্যার জন্য নিজের কিলার বাহিনীকে নির্দেশ দেয় শাহাদাত।