বুধবার ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ ভোর ০৪:১৭:১৩

Print

ঢাকায় ২২টি বাড়ি ও জমি, ৯১ অ্যাকাউন্টে ১৯ কোটি টাকাপালানোর পথ খুঁজছিল ক্যাসিনো হোতা এনু-রূপন


বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত : মঙ্গলবার ১৪ই জানুয়ারী ২০২০ সকাল ০৯:০০:৪৭, আপডেট : বুধবার ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ ভোর ০৪:১৭:১৩,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৯২ বার

ক্যাসিনো কারবারে জড়িত গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক রূপন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি জানিয়েছে, দেশে ক্যাসিনো ব্যবসা চালুর অন্যতম হোতা তারা দুই ভাই। নেপালিদের মাধ্যমে তারা বিদেশ থেকে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম নিয়ে আসেন। এর পর এই জুয়ার কারবারের মাধ্যমে হাতিয়েছেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। ঢাকায় কিনেছেন ২২টি বাড়ি ও জমি।

গতকাল সোমবার সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় দুভাইকে। দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া অভিযানে ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও অর্থ জব্দের পর অর্থপাচার আইনে যে নয়টি মামলা হয়, সেগুলো তদন্তের ভার আসে সিআইডির কাছে। এর মধ্যে নয় মামলার চারটির এজাহারেই এনামুল ও তার ভাই রূপনের নাম দেখা যায়। মামলা তদন্তের ধারাবাহিকতায় আমরা তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করি এবং সকালে কেরানীগঞ্জে তাদের এক সহযোগীর বাড়ি থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’



তদন্তে ও জিজ্ঞাসাবাদে দুই ভাইয়ের সম্পত্তির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এ দুজনের মোট ২২টি বাড়ি ও জমি রয়েছে, যার অধিকাংশই পুরান ঢাকায়। এ ছাড়া সারাদেশে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ৯১টি অ্যাকাউন্টে তাদের মোট ১৯ কোটি টাকা জমা রয়েছে। ব্যক্তিগত পাঁচটি গাড়িও রয়েছে দুই ভাইয়ের। গত সেপ্টেম্বরে দুজনের বাড়িতে অভিযানের সময় ৫ কোটি ৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। আমরা জানতে পেরেছি সেগুলো কালো টাকা। দেশের বাইরে পাচার করতে তারা সেগুলো রেখেছিল। রিমান্ডে নিয়ে দুভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘যখন তাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়, তারা আঁচ করতে পেরে সেখান থেকে পালিয়ে কক্সবাজার চলে যান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, নৌযানে অবৈধভাবে মিয়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া পালিয়ে যাবেন। তবে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা নেপালে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। এ জন্য তারা ঢাকায় এসে অবস্থান করেন কেরানীগঞ্জে মোস্তফা নামের এক সহযোগীর বাড়িতে। সেখান থেকে বেনামি পাসপোর্ট তৈরি করে ভারত হয়ে নেপাল যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন দুভাই। বেনামি পাসপোর্ট ও ভারত হয়ে নেপাল যাওয়ার জন্য মোট ৪০ লাখ টাকাও সঙ্গে রেখেছিলেন তারা। তাদের গ্রেপ্তারের সময় এই ৪০ লাখ টাকা ও ১২টি মোবাইল ফোনসেটও উদ্ধার করা হয়। আমরা জেনেছি এ দুজনের মাধ্যমেই বাংলাদেশে ক্যাসিনো কারবারের গোড়াপত্তন হয়। নেপালিদের মাধ্যমে তারা ক্যাসিনোর সরঞ্জাম বাংলাদেশে আনেন। এনামুল ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের পরিচালক ছিলেন।

কাউন্সিলর একেএম মমিনুল হক ওরফে সাঈদ ওরফে ক্যাসিনো সাঈদের আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সিআইডি শুধু ৯টি মানিলন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলা দেখছে। সাঈদ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং সম্পর্কিত কোনো মামলা আমাদের কাছে নেই। কিন্তু তদন্তের ফাইল খোলা আছে। মানিলন্ডারিংয়ের ৯টি মামলা ছাড়াও ১০টি মামলা রয়েছে সেগুলো তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে যারা অভিযুক্ত তাদের ধরা হবে।’

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর এনামুল ও রূপনসহ তাদের দুকর্মচারীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। পরে সেখান থেকে পাঁচ কোটি টাকা এবং সাড়ে সাত কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এর পর সূত্রাপুর ও গেন্ডারিয়া থানায় একাধিক মামলা হয় তাদের বিরুদ্ধে ।

তখন স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, এনামুল ও রূপনের মূল পেশা জুয়ার কারবার আর নেশা বাড়ি কেনা। জুয়ার টাকায় এনামুল ও রূপন ক্ষমতাসীন দলের পদও বাগিয়ে নেন।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে এনামুলের শেয়ার থাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ অনেক প্রভাবশালীকে।