সোমবার ২১শে অক্টোবর ২০১৯ সকাল ০৭:০৯:৩৪

Print

বগুড়া উপনির্বাচনে বিএনপির সিরাজ বিজয়ী


জেলা সংবাদদাতা/ বগুড়া:

প্রকাশিত : মঙ্গলবার ২৫শে জুন ২০১৯ সকাল ১০:১২:২২, আপডেট : সোমবার ২১শে অক্টোবর ২০১৯ সকাল ০৭:০৯:৩৪,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৬৩ বার

গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। ফাইল ছবি

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। তিনি পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৭৪২ ভোট।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীক নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এসএমটি জামান নিকেতা পেয়েছেন ৩২ হাজার ২৯৭ ভোট। সোমবার ইভিএমে ভোট শেষ হওয়ার সাড়ে ৩ ঘণ্টার মাথায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহাবুব আলম শাহ ফলাফল ঘোষণা করেন। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অপর ৬ প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম ওমর (লাঙ্গল) ৭ হাজার ২৭১, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী ড. মনসুর রহমান (ডাব) ৪৫৬ ভোট পেয়েছেন।

৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৮ ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭০ ভোট। ভোট গ্রহণের হার ৩৪.৫৫ শতাংশ। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ জানান, মানুষের মনে ইভিএম ভীতি কাটেনি। ব্যালটে ভোট হলে দ্বিগুণ ভোট পেতাম। ১০ বছরে দেশে ভোটের কালচার নষ্ট হয়ে গেছে। তারপরও সরকারের ইচ্ছার উন্নতি হয়েছে। সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আওয়ামী লীগ প্রার্থী জামান নিকেতা ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপনির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার এএসএম জাকির হোসেন জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হয়েছে। বগুড়ার পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবদুল জলিল জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকায় কোনো কেন্দ্রেই বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সকাল ৯টায় ১৪১ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইভিএমে ভোট শুরু হয়। সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যরা দল বেঁধে কেন্দ্রে আসেন। প্রতিটি কেন্দ্রের সামনে নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গল প্রতীকের সমর্থকরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ভোটারদের সহযোগিতা করছিলেন। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যদের টহল ছিল লক্ষণীয়। বেলা ১০টায় সরকারি মোস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার জাকির হোসেন জানান, তার কেন্দ্রে তিন হাজার ৬৬ ভোট। এক ঘণ্টায় ১৩০ ভোট পড়েছে। কোনো ঝামেলা হয়নি। পিটিআই স্কুল মহিলা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সিরাজুল ইসলাম জানান, তার কেন্দ্রে মোট ভোটার দুই হাজার ৯৮৪ জন। এক ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৪৭টি। সিটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মহিলা কেন্দ্রে প্রথম দুই ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ১৪৮ ভোট। চালিতাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৬৮৫টি। তবে এ কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট দেখা যায়নি।

পল্লী মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কথা হয় শাখারিয়া ইউনিয়নের জঙ্গলপাড়ার জাহের আলী (৯০) ও আবেদন বেওয়ার (৯১) সঙ্গে। তারা জানান, ইভিএমে ভোট দেয়া সহজ। খুব স্বল্প সময়ে ভোট দিতে পেরে খুশি। চালিতাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পাঁচবাড়িয়া গ্রামের বৃদ্ধ সলিম সরদার (৯২) জানান, নাতির সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পেরেছি। শহরতলির নুনগোলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকার এজেন্ট রবিন, ধানের শীষের এজেন্ট মাসুদ রানা ও লাঙ্গলের এজেন্ট রাকিবুল হাসান জানান, ইভিএমে ভোট গ্রহণে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কোনো ঝামেলা নেই। সবাই মিলেমিশে ভোটারদের সহযোগিতা করছেন।