মঙ্গলবার ২২শে অক্টোবর ২০১৯ দুপুর ০১:১২:২০

Print

ছাত্রদলের সঙ্কট কাটছে না, সড়ে দাঁড়ালেন আব্বাস-গয়েশ্বর


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার ১১ই জুলাই ২০১৯ সকাল ০৯:৫৩:৪৭, আপডেট : মঙ্গলবার ২২শে অক্টোবর ২০১৯ দুপুর ০১:১২:২০,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৮৯ বার

ফাইল ছবি

ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট সঙ্কট সমাধানের দিকে এগুলেও শেষ মুহূর্তে আবার জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহ দমনে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েও হঠাৎ সেখান থেকে সরে যাওয়ায় এই সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় উদ্ভূত সংকট নিরসনে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় তিন নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সরে দাঁড়িয়েছেন।

পরবর্তী কাজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে গঠিত সার্চকমিটির নেতাদের দিয়ে সম্পন্ন করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও তারেক রহমান বলেছেন, একটু সময় নিয়ে হলেও তাদের নিয়েই ছাত্রদলের সংকট সমাধান করবেন।

ছাত্রদলের বিদ্রোহীদের এখনকার দাবি, সার্চ কমিটির নেতাদের অধীনে একটা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হোক। কিন্তু এখানেই আটকে আছে সিদ্ধান্ত।

এদিকে, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে গঠিত সার্চ কমিটির নেতাদের মধ্যেও এই নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বিদ্রোহীদের দিয়ে স্বল্পকালীন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পক্ষে রয়েছেন কয়েকজন। তবে তারেক রহমানের আস্থাভাজন হতে কয়েকজন নেতা বিরোধিতা করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

এ অবস্থায় বিদ্রোহীরা ফের আন্দোলন নামতে পারে বলে জানা গেছে। ধারাবাহিক কমিটি গঠনের দাবিতে করণীয় নিয়ে তারা ফের বৈঠক করবেন।

গতকাল বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমান স্কাইপে যুক্ত হয়ে মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে কথা বলেন।

ছাত্রদলের বিদ্রোহী নেতারা জানান, সার্চ কমিটির নেতাদের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র তিন নেতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক ছিলেন তারা। তারপরও দল আগের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে তারেক রহমান সার্চ কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তার আহ্বায়ক কমিটি না করার পূর্বের সিদ্ধান্তের কথা জানান। সাবেক ছাত্রনেতাদের তিনি জানিয়েছেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্রনেতাদের দাবি মানা হবে না। দলের সিদ্ধান্ত মানলে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো আহ্বায়ক কমিটি হবে না।

অবশ্য, কমিটি নিয়ে টানা বিক্ষোভের মুখে গত সপ্তাহ দুয়েক ধরে বিদ্রোহীদের দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের আশ্বাস দেয় হাইকমান্ড। মূলত তারেক রহমানের আশ্বাসের ভিত্তিতে হাইকমান্ড আহ্বায়ক কমিটি গঠনের উদ্যোগও নেয়। হঠাৎ মঙ্গলবার রাতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেখান থেকে সরে তার পূর্বের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানান।

বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতা বলেন, ‘ছাত্রদলের কমিটি ৩ জুন বিলুপ্ত করার পর সৃষ্ট সঙ্কট সমাধানে সার্চ কমিটি ব্যর্থ হলে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে দায়িত্ব দেন তারেক রহমান। তারা দ্রুত বিষয়টি সমাধানের দিকেও নিয়ে যান। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। ওই বৈঠকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এই ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কিন্তু সম্প্রতি সার্চ কমিটির কোনো কোনো নেতার কর্মকাণ্ড তাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। সার্চ কমিটির কর্মকাণ্ডে তাদের মনে হয়েছে, আব্বাস-গয়েশ্বর এবং সার্চ কমিটি মুখোমুখী অবস্থানে। যা দলের এবং ওই দুই নেতার জন্য সম্মানজনক নয়।’

সার্চ কমিটির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, বিদ্রোহী ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে সাবেক কয়েকজন ছাত্রনেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূলত সঙ্কট সমাধানের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করেছেন তারেক রহমান। অবশ্য, বিদ্রোহ না করলে ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে তাদের জায়গা করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে গতকাল বুধবার দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, ছাত্রদলের সবার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করাসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। বিষয়গুলো দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও জানেন। এখন বাকি যে কাজ তা সাবেক ছাত্রনেতাদের (সার্চ কমিটির)।’

সার্চ কমিটির অন্যতম নেতা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘ক্ষুব্ধ নেতাদের বহিস্কারোদেশ প্রত্যাহার করা, আগামী দিনে দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনেসহ বিভিন্ন পর্যায়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিক্ষুব্ধরা আমাদের ছোট ভাই। তাদের দলে অনেক ত্যাগ রয়েছে, মামলা-হামলায় তারা জর্জরিত, জেল খেটেছেন। তাদের বিষয়টিও আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তাদেরকে নিয়ে আমরা সব কিছু করব।’

এদিকে, ছাত্রদলের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুলাই ভোটগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও সংগঠনের সঙ্কট সমাধান না হওয়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ফরমই বিক্রি করতে পারেনি। আগামী ২৭ অথবা ২৮ জুলাই সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘ক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই ছাত্রদলের কাউন্সিলের নতুন তারিখ ঠিক করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদলের কাউন্সিলের জন্য তিনটি কমিটি করা হয়েছে। নির্বাচনের শিডিউলও ঘোষণা করা হয়েছে। যেহেতু ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে, সেহেতু নতুন আহ্বায়ক কমিটি জটিলতার সৃষ্টি করবে। এটি গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি।’

ছাত্রদ‌লের সা‌বেক সহসভাপ‌তি ইখ‌তিয়ার রহমান ক‌বির ব‌লেন, ‘নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে ২০০০ সালে এসএসসি পাসের বাধ্যবাধকতাও আমরা মেনে নিয়েছি। আমরা নির্বাচন পরিচালনাসহ তিন কমিটি মেনেই কাউন্সিল করতে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবি করেছি। সুতরাং আমাদেরকে নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে কারও প্রশ্ন থাকতে পারে না। আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্যদের প্র‌তি আস্থাশীল। আমা‌দের নেতা তা‌রেক রহমানও আমা‌দের বিষয়‌টি বি‌বেচনা কর‌বেন।’