মঙ্গলবার ২১শে মে ২০১৯ সকাল ০৬:২৮:০২

Print Friendly and PDF

আগুন দেয় জোবায়েরগর্ভে সন্তান নিয়েই কিলিং মিশনে যায় মণি!


বিশেষ প্রতিনিধি:

প্রকাশিত : মঙ্গলবার ২৩শে এপ্রিল ২০১৯ সকাল ০৯:২৭:২২, আপডেট : মঙ্গলবার ২১শে মে ২০১৯ সকাল ০৬:২৮:০২,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩০৪ বার

নুসরাত জাহান রাফি। ফাইল ছবি।

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করতে পাঁচ মাসের গর্ভের সন্তান নিয়েই 'কিলিং মিশনে' অংশ নেয় মামলার আসামি কামরুন্নাহার মণি। শনিবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ফেনীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে মণি এ জবানবন্দি দেন।

পাশাপাশি রবিবার একই আদালতে আরেক আসামি জোবায়ের জবানবন্দিতে বলেছেন, সে নিজেই ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে রাফির শরীরে আগুন দিয়েছে।

নুসরাত হত্যাকান্ডে সরাসরি পাঁচজন জড়িত ছিল। এরা হলেন- শামিম, জোবায়ের, জাবেদ হোসেন, কামরুন নাহার মনি ও উম্মে সুলতানা পপি। উম্মে সুলতানা পপি নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায়, তার হাত ও পা বাঁধতে সহায়তা করে এবং তার পা চেপে ধরে রাখে। শামীম নুসরাতকে চেপে ধরে রাখে। কামরুন নাহার মনি নুসরাতের বুকে চেপে ধরে রাখে। তারা নুসরাতের কাছ থেকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে। আর নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের।
রবিবার সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল এসপি মো. ইকবাল।

পিবিআই মামলার রিমান্ডে থাকা আসামি জোবায়েরকে নিয়ে শনিবার সোনাগাজীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে জোবায়েরের দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে সোনাগাজী সরকারি কলেজের কাছে ডাঙ্গিখাল থেকে নুসরাত হত্যাকান্ডে ব্যবহার জোবায়েরের পরিধান করা বোরকাটি উদ্ধার করে।

এদিকে এ হত্যামামলায় মোট ২৫ থেকে ২৮ জন সম্পৃক্ত ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। আলোচিত এ মামলায় এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। এদের মধ্যে রয়েছে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা, পৌর কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম শরিফ, হাফেজ আবদুল কাদের, সোনাগাজী আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, ইফতেখার হোসেন রানা ও ইমরান হোসেন মামুন। এদের মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আটজনের মধ্যে সব আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, আবদুর রহিম শরিফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন ও সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের।

জোবায়েরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ম্যাচের কাঠি দিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরায় জোবায়ের। রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায় পপি। সেখানে আগে থেকেই আমি (জোবায়ের) অপেক্ষা করছিলাম। আমার সঙ্গে ছিলেন মণি, পপি, শাহাদাত ও জাবেদ। রাফি ছাদে এলে আমরা তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ দিই। এতে রাফি রাজি না হলে তার হাত-পা বেঁধে ছাদে শুইয়ে ফেলি। এরপর রাফির পা চেপে ধরেন পপি, মুখ চেপে ধরেন শাহাদাত, মণি বুক চেপে ধরেন, জাবেদ কেরোসিন ঢালেন এবং আমি (জোবায়ের) দিয়াশলাই দিয়ে গায়ে আগুন ধরাই।

পিবিআইর পুলিশ সুপার মো. ইকবাল বলেন, নুসরাত জাহান রাফি হত্যার কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত ছিল কামরুন নাহার মণি। নুসরাতের বুকসহ শরীর চেপে ধরেন এবং তিনি বোরকা ব্যবস্থা করে দেন। রাফির পায়ে বেঁধে চলে যাওয়ার সময় মণি তাকে শম্পা বলে ডাকে। মণি আরও জানিয়েছে, বর্তমানে সে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

তিনি আরও বলেন, কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ স্বীকারোক্তিমূলক জবাবনন্দিতে মনি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে আরও চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য দিয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা উল্লেখ করেননি এই কর্মকর্তা।

অন্যদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া মামলায় সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আজ (মঙ্গলবার) জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। এছাড়া রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত দল।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্র্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে যান। পরীক্ষার আগে তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।