বুধবার ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ রাত ০৩:৩৪:৪৭

Print

উত্তরায় বাণিজ্যিক প্লট দখল করে মার্কেট, নিরব রাজউক!


লিটন চৌধুরী

প্রকাশিত : বুধবার ২২শে জানুয়ারী ২০২০ সকাল ১১:৩৯:৪৭, আপডেট : বুধবার ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ রাত ০৩:৩৪:৪৭,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৫৬ বার

রাজধানীর উত্তরায় ১১ ও ১৩ নং সেক্টরে রাজউকের ৩৫টি বাণিজ্যিক প্লট দখল করে মার্কেট গড়ে উঠেছে। বাঁশপট্টি, খাবার হোটেল, গাড়ীর গ্যারেজ, ভাঙ্গারির দোকান, ফার্নিচার মার্কেট, কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে অফিস খুলে বসেছে দখলদাররা। বার বার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও এখনো দখলমুক্ত করতে পারেনি রাজউক।

সর্বশেষ গতবছরের এপ্রিলে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তারের নেতৃত্বে উত্তরা ৩,৭,৯, ১১ ও ১৩ নং সেক্টরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোর পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হলেও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, অভিযানের মাস না পেরোতেই আবারো স্থানগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে পূর্বের পন্থায় গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ দোকানপাট।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগ নেতা, প্রশাসন ও রাজউকের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় অভিযানের পরও পুনরায় গড়ে ওঠেছে এ মার্কেট। তারা জানান, এই মার্কেটে দোকানের সংখ্যা প্রায় ১৫০টি। প্রতিটি দোকান থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে জামানত নেয়া হয়ছে। প্রতি মাসে দোকান প্রতি দশ থেকে পনেরো হাজার টাকা করে ভাড়া দিতে হয়। প্রতিমাসে ভাড়া বাবদ ১৩ লক্ষ টাকা করে বছরে প্রায় ১ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা আদায় করছে সংগবদ্ধ চক্রটি।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজধানীর উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ ১১ ও ১৩ নং সেক্টরের চৌরাস্তা থেকে ময়লার মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়কের উভয়পাশে বাঁশপট্টি, খাবার হোটেল, গাড়ীর গ্যারেজ, ভাঙ্গারির দোকান, ফার্নিচার মার্কেট, কাঁচাবাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে অফিস খুলে বসেছে দখলদাররা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা সময়নিউজকে বলেন, গেল বছর রাজউক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে এই মার্কেটটি গুড়িয়ে দেয়। কিছুদিন পরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহেল, সিদ্দিকী, আওয়ামী লীগ নেতা জজ মিয়া, কবির ও কবির হাসানের নেতৃত্বে এটি পুনরায় গড়ে তোলা হয়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা জজ মিয়া বলেন, ‘আমি এই মার্কেটের একজন দোকানদার মাত্র। আমার দোকানের নাম মা ফার্নিচার। আমিও ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করি। তবে ভাড়া কে নেয় বা কাকে দেন এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

জানতে চাইলে ৫১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরীফুল ইসলাম সময়নিউজকে বলেন, মার্কেট সম্পর্কে আমি অবগত আছি। বিস্তারিত জানতে হলে আমার অফিসে আসতে হবে।

এ বিষয়ে রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) মো. আখতারুজ্জামান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি পুরোপুরি অবগত নই। এই বিভাগে যিনি দায়িত্বে আছেন তার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাতে পারবো। এ রকম কিছু ঘটলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।