মঙ্গলবার ২০শে আগস্ট ২০১৯ বিকাল ০৩:৫৮:১৩

Print Friendly and PDF

অর্থনীতি নিয়ে চক্রান্ত চলছে: মেননশেয়ারবাজারে টানা দরপতন বিনিয়োগকারীদের অনশন


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : মঙ্গলবার ৩০শে এপ্রিল ২০১৯ দুপুর ০১:২৭:১২, আপডেট : মঙ্গলবার ২০শে আগস্ট ২০১৯ বিকাল ০৩:৫৮:১৩,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৪২ বার

শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের প্রতিবাদে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে গণঅনশন করেছেন বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় অনশন শুরু হয়।

এ সময় ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন অনশনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, দেশের অর্থনীতি নিয়ে সংক্রান্ত চলছে। বর্তমানে মুদ্রা ও পুঁজি- দুই বাজারেরই নাজুক অবস্থা।

অর্থমন্ত্রীও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি শেয়ারবাজারের উন্নয়নে ব্যর্থতার দায়ে বাজেটের আগেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের পদত্যাগ চেয়েছেন। এদিকে এদিনও বাজারে বড় দরপতন হয়েছে। ডিএসইর মূল্যসূচক কমেছে ৬২ পয়েন্ট। ফলে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার কোটি টাকা। বিনিয়োগকারীরা ডিএসইর সামনে ১২ দফা দাবি নিয়ে আবারও প্রতীকী গণঅনশন শুরু করে।

বেলা ২টার পর ডিএসইর সামনে উপস্থিত হন রাশেদ খান মেনন। বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর রশিদ চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাককে জুস খাইয়ে গণঅনশন ভাঙান তিনি।

মেনন বলেন, রোববার সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন- ‘পুঁজিবাজারে সংকট আছে। সেখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করা না গেলে আমাদের শিল্প, বাণিজ্য কোনোটাই হবে না। কারণ পুঁজিবাজার থেকেই অর্থ সংগ্রহ করা হয়।’ সংসদে সত্য কথা বলায় আমি অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু সত্য কথা বলেই শেষ হবে না। আমাদের কথা হচ্ছে, বিএসইসির চেয়ারম্যান আইন ভঙ্গ করে পরপর তিনবার কীভাবে থাকেন? এর জবাব আপনাদের দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখতে চাই এ বাজেটের আগেই বিএসইসিতে পরিবর্তন এসেছে। কারণ আপনারা আইন ভঙ্গ করেছেন। আমরা পার্লামেন্টে আইন করেছি, আপনারা সেই আইন ভেঙেছেন। তিনি বলেন, আমরা তালিকা চাই গত ৯ বছরে কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে আইপিও ইস্যু করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তারা কারা? তাদের পরিচয় চাই এবং তাদের বর্তমান অবস্থা কী? আমরা তার তালিকা চাই।

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে চক্রান্ত চলছে- এমন ইঙ্গিত করে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রধান বলেন, আর্থিক খাত সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের দুর্ভাগ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন-রাত পরিশ্রম করে এ দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে গেছেন, সেখানে আমাদের আর্থিক খাতের পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট নেতিবাচক। এটি অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতি খারাপ হবে। সামষ্টিক অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। তাহলে অর্থনীতি নিয়ে দেশে কোন চক্রান্ত চলছে?

এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সোমবার বৈঠক করেছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। বৈঠকে বাজার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ উপস্থিত ছিলেন।